তিস্তায় নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢল
<![CDATA[
রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদীতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে, সুসজ্জিত বাহারি রঙের নৌকা নিয়ে নৌকাবাইচে অংশ নেন প্রতিযোগীরা। দীর্ঘদিন পর এমন আয়োজন উপভোগ করতে পেরে খুশি দর্শনার্থীরা।
রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকেই নানা বয়সের হাজারো মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকাবাইচ দেখতে আসেন তিস্তার দুই পাড়ে। আয়োজক, দর্শক আর প্রতিযোগীদের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনে উৎসাহের কমতি ছিল না। সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌকাবাইচ উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।
রেফারি সংকেত দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাইচালরা শক্ত হাতে নদীতে বৈঠা চালিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেন। বিজয় ছিনিয়ে নিতে নির্দিষ্ট সীমানায় পৌঁছানোই একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাইচালদের।
আওয়ামী লীগ নেতা হযরত আলী স্মৃতি সংঘ আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় মোট আটটি নৌকা অংশ নেয়। ফাইনাল খেলায় কাউনিয়ার দল বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসকে পরাজিত করে বিজয়ী হয় পাশের জেলা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের একাত্তরের সৈনিক দল।
বিজয়ী একাত্তরের সৈনিক দলের সদস্যরা জানান, তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতের মধ্যে নৌকা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বেশ কষ্টকর হলেও বিজয়ী হতে পেরে আনন্দিত তারা। এ সময় প্রতিবছর নৌকাবাইচ আয়োজনের দাবি জানান তারা।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে নৌকাবাইচে সহস্রাধিক মানুষের ঢল
পরাজিত দল বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসের সদস্যরা জানান, দুপুর থেকে বেশ কয়েকবার নৌকাবাইচ করে ক্লান্ত ছিলেন দলের বাইচালরা। তবে পরাজয় মেনে নিয়ে তারা বলছেন, অংশগ্রহণ করে ভালো লেগেছে সদস্যদের।
নৌকাবাইচ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। এ সময় তিনি মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছরই এ ধরনের আয়োজন করা হবে।
হযরত আলী স্মৃতি সংঘের সভাপতি দিলদার আলী বলেন, ‘তিস্তা নদীতে নৌকাবাইচ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসায় আমরা অনেক খুশি।’ ভবিষ্যতে এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল আলিম মাহমুদ, পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরীসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
]]>




