প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
<![CDATA[
পুরান ঢাকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সংরক্ষণ নিয়ে অবহেলার অভিযোগ পুরানো হলেও এবার নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে। বেসরকারি সংস্থা আরবান স্টাডি গ্রুপ দুই হাজার ২০০ বাড়িকে প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ উল্লেখ করে আদালতে তালিকা দিলেও মাঠপর্যায়ের জরিপ শেষে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের দাবি এমন বাড়ির চূড়ান্ত সংখ্যা হতে পারে ২০ থেকে ২২টি। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে ওই এলাকায় ভবন নির্মাণ ও সংস্কারে নিষেধাজ্ঞা চলায় মানুষের ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা।
ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এক নগরী ঢাকা। রাস্তাঘাট, অলিগলি আর ইটসুরকির বাড়িগুলো আজও গলা উঁচিয়ে জানান দিচ্ছে তার জৌলুসময় অতীতের আখ্যান। সময়ের স্রোতে ভেসে এখন অনেকটাই সংকীর্ণ ও ঘনবসতিপূর্ণ মুঘল ঐতিহ্যের সাক্ষ্যবহন করা পুরান ঢাকা। এক সময়ের জীবন্ত সেই ইতিহাসের গায়ে আজ রাজ্যের ধুলোর আস্তরণ। অবহেলা আর আনাদরে রঙিন সেই অতীত দিনে দিনে পরিণত হয়েছে নিঃস্ব, বিবর্ণ ও ধুসর জড়বস্তুতে।
বেসরকারি সংস্থা আরবান স্টাডি গ্রুপের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে পুরান ঢাকার দুই হাজার ২০০ বাড়ি অক্ষত রেখে বাড়িগুলোর প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য নির্ণয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরকে আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশের চার বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি সংস্থাটি।
অন্যদিকে, আদালতের রায়ে চার বছর ধরে সংস্কার বা নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে সময় কাটছে অধিবাসীদের। অভিযোগ আছে কোনো প্রকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব কিংবা নান্দনিক সৌন্দর্য না থাকা অনেক আধুনিক বাড়িকেও তালিকায় অন্তর্ভুক্তির। এ নিয়ে ক্ষোভ স্থানীয়দের।
এক স্থানীয় জানান, বাড়িটি পুরাতন হয়ে গেছে। ভেঙে নতুন করে তৈরি করা প্রয়োজন। যদি না করা হয় তাহলে যে কোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: খানজাহানের বসতভিটায় মিলল সাড়ে ৬০০ বছরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
প্রতি তিন মাস অন্তর আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের কথা থাকলেও চার বছরে মাত্র ১০০টি বাড়ির তথ্য জমা দেয়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর এবার প্রশ্ন তুলছে আরবান স্টাডি গ্রুপের তালিকার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার আশ্বাস প্রতিষ্ঠানটির।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, তাদের দেয়া তালিকা থেকে ২০ থেকে ২২টি বাড়ি হতে পারে।
অন্যদিকে, গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ একটি বা দুটি ভবন নয়, পুরান ঢাকার কিছু কিছু এলাকাও অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পিত সংরক্ষণের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করছে আরবান স্টাডি গ্রুপ। তাদের অভিযোগ, নিজেদের দায়ভার এড়াতে ঐতিহাসিক স্থাপনা নিয়ে লুকোচুরি করছে সরকারি সংস্থা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। এমনকি রাজউকের বড় পরিসরের নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আপত্তি ইউএসজির।
আরবান স্টাডি গ্রুপ প্রধান নির্বাহী তাইমুর ইসলাম বলেন, যখন ২০১৪ সালে তালিকা করতে বসছিলাম। একটা হেরিটেজ কমিটি গঠন হয়েছিলো। সেসময়ে তাদের সঙ্গে বসা হয়েছিল। আজকে এ কথা বললে কেন মানব? তারা ৩০-৩৫ বাড়ির ভেতর থেকে বের হতে চান না।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা বলেন, বাড়িগুলো পুরনো হওয়ার কারণে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে। সেই বিষয়টা বিবেচনা করে সেগুলোর বিষয়ে আগে সিদ্ধান্ত নেয়াটা জরুরি।
এদিকে বৈজ্ঞানিক প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ না করায় সরকারি বেসরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের জরিপ নিয়েই আপত্তি তুলেছেন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, যে বিল্ডিংয়ের নাম তুলে ধরা হয়েছে; সেগুলো নাম কি, ওই বিল্ডিংয়ের ইতিহাস কি তার তাৎপর্য কি। এ বিষয়গুলো বিচেনায় আনতে হবে।
আরবান স্টাডি গ্রুপের তালিকা ছাড়াও রাজউকের তালিকায় ৭৪টি ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকায় থাকা পুরান ঢাকার পুরাকীর্তির সংখ্যা ১০৬টি।
]]>




