সাবিনাদের বরণে বিমানবন্দরে যাবেন না সালাউদ্দিন
<![CDATA[
নারী ফুটবলে দিন বদলের গল্প লিখেছেন সাবিনা-সানজিদারা। ১৯ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়ে তাদের হাত ধরে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। সাবিনাদের সংবর্ধনা জানাতে বিমানবন্দর থেকে বাফুফে ভবন পর্যন্ত বরণ করা হবে ছাদখোলা বাসে। এসময় বিমানবন্দরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও বাফুফের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত হলেও উপস্থিত থাকবেন না বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। এর আগে ২০১৬ সালে শিরোপার খুব কাছে গিয়েও স্বপ্নভঙ্গ হয় সাবিনাদের। তবে এবার আর কোনো আক্ষেপ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জিতে নিয়েছে সাবিনা-সানজিদা ও মারিয়ারা।
কাঠমান্ডুর দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ম্যাচটি জিতেছে ৩-১ গোলের ব্যবধানে। দলের হয়ে জোড়া গোল করেন কৃষ্ণা রানি সরকার। একটি গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। প্রতিপক্ষের হয়ে একটি গোল শোধ করেন অনিতা বাসনেত।
আরও পড়ুন: নারী ফুটবলার তৈরির ‘কারখানা’ কলসিন্দুর বিদ্যালয়
ঐতিহাসিক সাফ জয়ের আগে নারী ফুটবলার সানজিদা আক্তারের আবেগঘন এক ফেসবুক পোস্টে ছাদখোলা বাসের প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। শিরোপা জয়ের পর কোটি সমর্থকেরও দাবি, চ্যাম্পিয়নদের যেন ছাদখোলা বাসেই বরণ করা হয়। বাফুফে এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অবশেষে সেটিই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
জয়িতাদের বরণ করতে বিমানবন্দরে যুব ও ক্রীড়াপ্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগসহ ফেডারেশনের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন। তবে সেখানে নিজে উপস্থিত থাকবেন না বলে জানিয়েছেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। মূলত, চ্যাম্পিয়ন দলকে যেন পুরোপুরি মিডিয়া কাভারেজ পায় সে জন্য তিনি বিমানবন্দরে যেতে চান না।
আরও পড়ুন: সব পুরস্কার বাংলাদেশের ঝুলিতে
গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) সালাউদ্দিন বলেন, ‘দলকে সংবর্ধনা জানাতে বিমানবন্দরে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও বাফুফের কার্যনির্বাহী কমিটির একটি দল সেখানে যাবে। আমি দলকে সংবর্ধনা জানাব বাফুফেতে। প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে আসছে মেয়েরা। আমি যদি ওখানে যাই, আপনারা অনেক প্রশ্ন করবেন। তাতে আমাদের মেয়েরা যে লাইমলাইট পাওয়ার কথা সেটা ভাগ হয়ে যাবে।’
বাফুফে সভাপতি আরও বলেন, ‘এটা মেয়েদের দিন। বাফুফের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের দিন না। আমি চাই মেয়েরা যেন এককভাবে আপনাদের মিডিয়া কাভারেজটা পায়। আপনাদের কাছে অনুরোধ খেলোয়াড়দের ফোকাস করুন। যেন দুই-চার বছর পর আরও বড় কোনো টুর্নামেন্ট জিততে পারি।’
এর আগে ফাইনালের সালাউদ্দিন মাঠে উপস্থিত না হওয়ায় অনেক সমালোচনা হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবরই হয়তো জানেন না বাফুফে সভাপতি।
সে সব সমালোচনার উত্তর দিয়ে সালাউদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নেপালে যাওয়ার জন্য আমি তিনবার টিকিট কেটে, তিনবারই বাতিল করেছি । সাফের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার কর্তব্য ছিল ফাইনালে জয়ী দলকে ট্রফি তুলে দেয়া। বাংলাদেশকে ট্রফি তুলে দেয়া তো আমার জন্য গর্বেরই। কিন্তু আমি অনেক চিন্তা করে, নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করে দেখলাম, আমি গেলে মেয়েগুলো চাপে থাকবে। তারা ভালো ফুটবল খেলছিল, তাদের সঙ্গে তাদের চেয়ারম্যানও ছিল। কিন্তু আমি গেলে ভালো, খারাপ দুটোই হতে পারে। অতিরিক্ত চাপ যেহেতু তৈরি না হয়, সেজন্য আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাফুফেতে বসে খেলা দেখব।’
]]>




