মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শতাধিক সেনার আত্মসমর্পণের দাবি
<![CDATA[
উত্তর রাখাইন এবং দক্ষিণ চীন রাজ্য জুড়ে সশস্ত্র আরাকান আর্মি (এএ) যুদ্ধে প্রাধান্য বিস্তার করায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর শতাধিক সেনা আরাকান আর্মির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।
সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা এই দাবি করেন। মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিয়ানমার নাউ’ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
তিনি জানান, জান্তা সামরিক বাহিনী দেশব্যাপী একাধিক ফ্রন্টে বিস্তৃত হয়ে লড়াই করছে। তারা রাখাইন রাজ্যের যুদ্ধে আগে যতটা শক্তি ব্যবহার করতে পারত এখন সেভাবে পারছে না। মিয়ানমার সামরিক বাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তীব্র হয়েছে। আরাকান আর্মি একাধিক সামরিক ঘাঁটি দখল করেছে এবং কৌশলগত পরিবহন রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
খাইং থুখার দাবি, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর পালেতওয়াকে কর্মকর্তাসহ অন্তত ১০ জান্তা সেনা তাদের অস্ত্রসহ পক্ষ ত্যাগ করেছে। লড়াই শুরুর আগেও অনেকে তাদের বাহিনীতে যোগ দিয়েছে। মে মাসে রাখাইন রাজ্যে লড়াই শুরু হওয়ার আগে ৯০ জনের মতো জান্তা সেনা আরাকান আর্মিতে যোগ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে মিয়ানমার!
যদিও মিয়ানমার নাউ স্বাধীনভাবে জান্তা সেনাদের দলত্যাগের আরাকান আর্মির দাবি যাচাই করতে পারেনি বলে উল্লেখ করেছে। স্থানীয়দের মতে, মিয়ানমার বাহিনীর একজন সৈন্য মে মাসে কিয়াউকতাউ টাউনশিপে তার পোস্ট ত্যাগ করে। তারপর সেপ্টেম্বরের শুরুতে রাথেদাউং টাউনশিপের সীমান্ত পুলিশ ফাঁড়ির তিনজন অফিসারের সাথে আরো দু’জন জান্তা সেনা একই কাজ করে।
২০২০ সালের নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে শুরু হওয়া অঘোষিত অস্ত্রবিরতির পর প্রায় ১৬ মাস রাখাইন ও পালেতওয়াতে সংঘাত থেমে থাকে। তবে গত কয়েক সপ্তাহে সংঘাত নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে।
মে মাস থেকে পালেতওয়াতে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ চলছিল। আগস্ট মাসে মিয়ানমার-ভারত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘাত জোরদার হয়। একই সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের কাছে মংডু টাউনশিপেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে।
মুখপাত্র বলেন, এই মুহূর্তে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। কিন্তু সামরিক সরকার ক্রমাগত সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহ লড়াই আরও জোরদার হতে পারে।
]]>




