বিদ্যুৎ বিল বকেয়া, তাই বরিশালে সড়ক বাতি বন্ধ
<![CDATA[
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ১০ বছরের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে অভিযোগ করে ১৫টি সড়কের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করেছে ওজোপাডিকো। এ ঘটনার পর নগরীর রাস্তায় এখন কোন সড়ক বাতি জ্বলছে না।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে নগরীর কালী বাড়ি রোডের মেয়রের বাস ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।
মেয়র বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ দাবি করছে ৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৩ টাকা বকেয়া আছে বরিশাল সিটি করপোরেশনের। এর মধ্যে পূর্বের মেয়রের আমলেরও টাকা বকেয়া থাকায় এখন ভারি হয়েছে বোঝা। সিটি করপোরেশনের কাছে আমার মেয়াদের সময়কার ১৫ কোটি ৮ লাখ ১৯৫ টাকা পাবে বিদ্যুৎ বিভাগ। বর্তমানে এতো টাকা পরিশোধের সক্ষমতা নেই সিটি করপোরেশনের। কিন্তু বরিশাল সিটি করপোরেশনের অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোর তুলনায় কম বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে। বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করবো নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে রাস্তার বাতিগুলোর পুনরায় সংযোগ স্থাপন করার।
সংবাদ সম্মেলনে সড়ক বাতির সংযোগ বিছিন্ন করে মেয়রকে প্রশ্নবিদ্ধের ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না সেই প্রশ্ন তোলেন প্যানেল মেয়রসহ নগর আওয়ামী লীগের নেতারা।
আরও পড়ুন: সেবা বন্ধ রেখে পল্লী বিদ্যুতের বকেয়া বিল আদায়, ভোগান্তিতে গ্রাহক
এদিকে মুখে ১৫টি সড়কের কথা বলা হলেও নগরের কোন সড়কেই বিদ্যুৎ নেই। এমন ঘটনায় বিপাকে পড়েছে নগরবাসী। এতে দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন অপরাধ বাড়বে বলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে নাগরিকদের মাঝে।
নগরীর ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় হঠাৎ দেখি সড়কবাতি জ্বলছে না। পরে জানতে পারি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তন্ময় চৌধুরী বলেন, রাস্তায় সড়কবাতি না থাকার ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া রাতে চলাফেরায় নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে।
নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাসান মাসুদ বলেন, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া আছে তা পরিশোধ হবে। সিটি করপোরেশন ও বিদ্যুৎ বিভাগ নিজেরা মিটিয়ে নিবে। আমাদের কেন দুর্ভোগে ফেলছে। দ্রুত এসবের অবসান চাই।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরিশাল ওজোপাডিকোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ টি এম তারিকুল ইসলাম সময় সংবাদকে জানান, ১০ বছরের বিদ্যুৎ বিল জমেছে সিটি করপোরেশনের। ১১২টি মিটারে মোট ৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৪৩ টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। এ বিষয়ে বার বার সিটি মেয়রের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। তাই ১৫টি সড়কের বাতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কিন্তু সবগুলো সড়কের বাতি কেন বন্ধ এ বিষয়ে কিছু জানা নেই।
আরও পড়ুন: মিটার সচল থাকলেও উঠছে না বিদ্যুৎ বিল!
তিনি আরও জানান, মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মেয়াদকালে বিল বকেয়া আছে ২০ কোটি ৩৫ লাখ ৪৭ হাজার ২৩১ টাকা। বাকি ৩৯ কোটি ৫৮ লাখ ৬৯ হাজার ৭১২ টাকা অন্যান্য মেয়রের সময়কার। এতো বড় বিলের বিপরীতে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৬৮ লাখ ১৭ হাজার ৮৯ টাকা পরিশোধ করেছে সিটি করপোরেশন।
তারিকুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ১৫টি সড়কের বাতির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিল পরিশোধ না করা হলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
]]>




