বিনোদন

বিয়ের দাবিতে নাবালিকার অনশন, পরে টাকার বিনিময়ে সমাধান

<![CDATA[

রংপুরের মিঠাপুকুরে বিয়ের দাবিতে সেনা সদস্যের বাড়িতে অনশনরত সেই অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী বাবার সঙ্গে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। ২৮ ঘণ্টা বিয়ের দাবিতে অনশন শেষে নানা নাটকীয়তার পর মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তার বাবা ঐ নাবালিকা মেয়েকে সেনা সদস্যের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।

গত সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের দাবিতে বদরগঞ্জ উপজেলার নাগেরহাট গাছুয়া পাড়ার ব্যাংক কর্মচারি গোলাম মোস্তফার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া (১৩) বছরের নাবালিকা মেয়ে অনশন শুরু করেন।

এসময় মিঠাপুকুর উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের সিরাজুল হকের পুত্র সেনাসদস্য রওশন আলীর সাথে বিয়ে না হলে আত্মহত্যার হুমকি দেন এবং রওশনে সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক ছিলো বলে জানান। পরে বাড়ি ছেড়ে রওশন ও তার বাবা আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন।

১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর দু’দিন নানান নাটকীয়তা আর মিমাংসার জন্য একাধিক প্রকাশ্য এবং গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও ঐ সেনা সদস্য ছাত্রীকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি। এদিকে রওশন আরেক মেয়ের সঙ্গে কাবিননামা করার বিষয়টি ছাত্রী এবং তার পরিবারকে জানানো হলেও তারা রওশনের সঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে।

এসময় মেয়ের মা জানায়, রওশন আমার মেয়ের সর্বনাশ করেছে, তাই বিয়ে ছাড়া আর কোন মিমাংসা সম্ভব নয়। কিন্তু গোপনে টাকার পরিমাণ নিয়ে রফাদফা চলছিল বলে জানা যায়।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ইউপি সদস্যের মধ্যস্থতায় মেয়ের বাবা গোলাম মোস্তফার দাবি করা টাকা দেয়া হয়। এরপরই গোলাম মোস্তফা রাত সাড়ে ১২টার দিকে মেয়েকে নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন: বাগেরহাটে প্রতিবন্ধী নারীকে মারধর, বিক্ষোভ

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মেয়ের পরিবার পাঁচ লাখ টাকা দাবি করলেও পরে তিন লাখ টাকায় বিষয়টি রফাদফা হয়েছে। শয়ন মন্ডল নামে একজন জানান, লেনদেনের সময় আমি ছিলাম না, তবে তিন লাখ টাকায় মিমাংসার বিষয়টি সঠিক।

এ বিষয়ে জানতে ঐ ছাত্রীর বাবা গোলাম মোস্তফার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সময় সংবাদকে জানান, আমার মেয়ে গত দুই দিন থেকে ঐ সেনা সদস্যের বাড়িতে অবস্থান করার পরেও কেউ কোন সমাধান করতে পারেনি। আমার মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবেই আমার মেয়েকে নিয়ে এসেছি।

এ সময় কত টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করেছেন জানতে চাইলে তিনি কৌশলে তা এড়িয়ে যান এবং থানায় যোগাযোগ করতে বলেন। পরে, ঐ ছাত্রী এবং তার মাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।

সেনা সদস্য রওশন বলেন, ওই মেয়ের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমি তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। এরপর ভালো-মন্দ যাচাই করার জন্য কয়েকদিন কথা বলেছি। আমি জানতে পেরেছি ওই মেয়ের বাড়ির পাশে এক ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে। পরে পারিবারিক ভাবেই অন্য জায়গায় আমার বিয়ে হয়েছে। মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কত টাকায় রফাদফা হয়েছে জানতে চাইলে ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এ ব্যাপারে কেউ থানায় কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। কেউ অভিযোগ করলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!