শেষ হলো এক কিংবদন্তির পথচলা
<![CDATA[
টেনিসবিশ্বের এক রাজা বিদায় নিলেন। সাফল্যরাঙা ক্যারিয়ারে শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শেষবারের মতো কোর্টে নেমেছিলেন রজার ফেদেরার। জুটি বেঁধেছিলেন এত দিনের প্রবল প্রতিপক্ষ রাফায়েল নাদালের সঙ্গে। তবে শেষ ম্যাচটায় জয় পাননি ফেদেরার।
নিয়মিত না হলেও দীর্ঘদিন চোটের সঙ্গে লড়াই করে খেলে যাচ্ছিলেন ফেদেরার। কিন্তু একটা সময় তো থামতেই হতো, বলতেই হতো-আর নয়। উপলব্ধিটা আসার পর আর দেরি করেননি তিনি। গত ১৫ সেপ্টেম্বর জানিয়ে দেন, বিদায় বলার সময় হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের শিশুদের পাশে দাঁড়ালেন রজার ফেদেরার
লন্ডনের ওটু অ্যারেনায় লেভার কাপে নাদালের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন ফেদেরার। সেই ম্যাচে ৪-৬, ৭-৬(৭-২), ১১-৯ গেমে জ্যাক সক ও ফ্রান্সেস টিয়াফোর কাছে হেরে যান ফেদেরার-নাদাল জুটি। সক ও ফ্রান্সেসের জীবনে এটি এক বড় প্রাপ্তি। তবে ম্যাচ শেষ জয়ের কোনো উল্লাসই করেননি সক ও ফ্রান্সেস।
দুই প্রতিপক্ষকে হাসিমুখে অভিনন্দন জানালেন, নাদালকেও প্রথমে হাসিমুখে আলিঙ্গন করলেন। এরপরই মুখে বিষণ্নতা ভর করল ফেদেরারের। অশ্রুসিক্তে সবাইকে বিদায় বললেন ফেদেরার। বিদায় ম্যাচে শিশুদের মতো কাঁদলেন ফেদেরার। তাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন নাদাল, জোকোভিচরা। জীবনের শেষ ম্যাচ খেলে মাইক হাতে নিয়ে একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফেদেরার বলেন, ‘কোনো মতে কেটে গেল, তাই না? আমি খুশি। তোমাদের যেমন বলছিলাম। আমার কোনো দুঃখ নেই।’
গ্যালারিতে ফেদেরারের পরিবারের প্রায় সবাই উপস্থিত ছিলেন। জীবনে সবসময় পাশে থাকার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান স্ত্রী মিরকা ফেদেরারকে। ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানান বাবা-মাকে।
ফেদেরার বলেন, ‘সবাই এখানে আছে, আমার ছেলেমেয়েরা আছে। আমার স্ত্রী আমাকে অনেক আগেই থামাতে পারত; কিন্তু সে তা করেনি। সে আমাকে খেলা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছে, খেলতে দিয়েছে। ধন্যবাদ তোমাকে। সবাইকে ধন্যবাদ, অনেক মানুষকে ধন্যবাদ দিতে হবে। অবিশ্বাস্য একটা যাত্রা ছিল।’
আরও পড়ুন: জকোভিচকে সেরা বললেন ফেদেরার!
১৯৯৮ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে সিনিয়র লেভেলে পা রাখেন ফেদেরার। এর পর উইম্বলডন, ইউএস ওপেন, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ফরাসি ওপেন মিলিয়ে মোট ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ঝুলিতে নিয়ে ৪১ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ফেদেরার।
]]>




