‘চিরশত্রুদের পরাজিত ও লুটেরাদের বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিতে হবে’
নিজস্ব প্রতিনিধি :
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেছেন, “দেশের রাজনীতিতে বর্তমান অস্থিরতা, সংঘাত, সংঘর্ষ নতুন নয়। এটা ৫২, ৭১, ৭৫ এর পুরাতন বিরোধেরই বহি:প্রকাশ। স্বাধীনতার ৫০ বছর অতিক্রান্ত হলেও এই বিরোধের সমাধান ও মীমাংসা হয়নি। ৫২ ও ৭১ এর মীমাংসিত বিষয়সমূহ অমীমাংসিত করা, ঐতিহাসিক সত্যকে অস্বীকার করার রাজনীতিই এই বিরোধের মূল কারণ। ৫২ ও ৭১ বিরোধী, বাংলা, বাঙালি, বাংলাদেশ, স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পাকিস্থানপন্থার রাজনীতি রাষ্ট্র, রাজনীতি, সমাজে চাপিয়ে দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করে বিরোধের রাজনীতিকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে। বিএনপি-জামাতসহ জঙ্গী গোষ্ঠী শক্তিসমূহ এই বিরোধের রাজনীতির ধারক ও বাহক। এরা বাঙালির আত্মপরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সংবিধান মানে না। এরা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহনীর গণহত্যা ও রাজাকার, আলবদর, যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পক্ষে সাফাই গায়। এরা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক ধারাকে নিশ্চিহ্ন করতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, শেখ হাসিনাকে হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে।”
আজ শনিবার দুপুরে ফেনী শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

ফেনী জেলা সভাপতি নুরুল আমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মো: মোশারফ হোসেন, নুরুল আকতার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, মির্জা মো: আনোয়ারুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নুরুন্নবী ও জসিম উদ্দিন বাবুল প্রমুখ।
সাবেক তথ্যমন্ত্রী ইনু বলেন, “বাঙালি, বাংলা, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যতদিন রাজনীতির মাঠে থাকবে ততদিন দেশের রাজনীতি অস্থিরতা, সংঘর্ষ, সংঘাত, অশান্তির অবসান হবে না। বাংলা, বাঙালি, বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি, বাংকাদেশ রাষ্ট্রের চিরশত্রæদের রাজনৈতিকভাবে পরাজিত, দমন, ধ্বংস করেই রাজনীতি ও সমাজে স্থায়ী শান্তি অর্জন করতে হবে। এটা শেখ হাসিনার একার ক্ষমতায় থাকার বিষয় না, সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের চিরশত্রু পাকিস্তানপন্থার রাজনীতির ধারক বাহক বিএনপি, জামাতসহ জঙ্গীগোষ্ঠীকে বর্জণ ও ধ্বংস করার দায়িত্ব নিতে হবে।”

ইনু বলেন, “একাত্তরের পরাজিত চিরশত্রু জামাত-বিএনপি বর্জন ও পরাজিত করার রাজনৈতিক সংগ্রামের সাথে সমানতালেই জনগণের দৈনন্দিন জীবনের দুঃখ, কষ্ট দূর করা, দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক অযৌক্তিক উর্ধগতি রোধ করতে বাজার সিন্ডিকেট দমন, দূর্নীতিবাজ, চাটার দল, লুটেরা, দলবাজী, ক্ষমতাবাজী বন্ধ, বৈষম্যের অবসান করতে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিতে হবে। সুশাসন ও সমাজতন্ত্রের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।”




