বিনোদন

খুলনার মরিয়ম মান্নানের মা ফরিদপুর থেকে জীবিত উদ্ধার: পুলিশ

<![CDATA[

খুলনা নগরের দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশায় নিখোঁজ মরিয়ম মান্নার মা রহিমা বেগমকে (৫৫) অক্ষত অবস্থায় ফরিদপুর থেকে উদ্ধার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০.৪৫ মিনিটের দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার সৈয়দপুর কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। খুলনা থেকে আসা পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন রঞ্জন সরকার।

গতকাল তার লাশ পাওয়া গেছে সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তার মেয়ে মরিয়ম মান্নান। নিখোঁজের ২৯ দিন পর শনিবার ফরিদপুরের বোয়ালমারী থেকে তাকে উদ্ধার করা হলো।

খুলনা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ফরিদপুরের বোয়ালমারীর এক গ্রামের একটি বাড়ি থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করা হয়েছে। নগর পুলিশের একটি দল তাকে নিয়ে খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তিনি কিছু বলতে পারেননি। তবে পরে সব জানা যাবে।

আরও পড়ুন:  খুলনায় ঘুমন্ত নারীর শরীরে এসিড নিক্ষেপ

এ বিষয়ে রহিমা বেগমের মেয়ে মরিয়ম মান্নান জানান, আমাকে কেউ এ বিষয়ে জানায়নি। তবে সত্যিই যদি মাকে পাওয়া যায়, তাহলে আমার চেয়ে খুশি তো কেউ হবে না। এর কিছু সময় পরে অবশ্য মরিয়ম মান্নান ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে ফোন করে তার মাকে উদ্ধার করার কথা জানানো হয়েছে।

নিখোঁজ মাকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে কান্নায় ভেঙে পড়েন মরিয়ম মান্নান।

গত ২৭ আগস্ট রাত ১০টার দিকে খুলনার দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা উত্তর বণিকপাড়া এলাকার বাসার উঠানের নলকূপে পানি আনতে যান রহিমা বেগম। কিন্তু এক ঘণ্টা পরও তিনি বাসায় না ফেরায় তার সন্তানেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। নলকূপের পাশে তাদের মায়ের জুতা, ওড়না ও পানির পাত্র পড়ে থাকলেও মাকে তারা খুঁজে পাননি। এ ঘটনায় ওই রাতেই রহিমা বেগমের ছেলে দৌলতপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরদিন তার মেয়ে আদুরী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ মামলা করেন। এ ছাড়া বিষয়টি র‌্যাবকেও জানানো হয়। এ মামলায় ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মায়ের সন্ধান চেয়ে ঢাকায় মানববন্ধনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে আসছিলেন তার সন্তানরা।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল ওহাব বলেন, খুলনা মহানগর পুলিশের এডিসি আবদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুস মোল্লার বাড়ি থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধার করেছে। দলটি খুলনার উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছে।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বওলা গ্রামের ঝোপ থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ নিজের মায়ের বলে দাবি করেছিলেন মরিয়ম মান্নান। ‘লাশ শনাক্তে’ শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তিনি ফুলপুর থানায় যান। এ সময় মরিয়ম লাশটি তার মায়ের দাবি করে নিয়ে যেতে চান। সেখানে লাশের পরিহিত কাপড় দেখেন। এরপর মরিয়ম দাবি করেন, লাশটি তার মায়ের। পরে মরিয়ম মান্নান ফুলপুর থানায় ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন।
 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!