বাংলাদেশ

৫০ বছরেও ফুরাবে না চীনের কয়লার মজুত

<![CDATA[

চীনের মাটিতে পর্যাপ্ত কয়লা রয়েছে, যা পরবর্তী ৫ দশক ধরে চলতে পারে। পাশাপাশি দেশটিতে কমপক্ষে ১৮ বছর ধরে চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল রয়েছে। এমন তথ্যই জানিয়েছে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরটিএর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

চীনের প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সবশেষ তথ্য বলছে, চীনের মাটিতে যে পরিমাণ কয়লা রয়েছে, তা পরবর্তী ৫ দশকেও ফুরাবে না। এমনকি বর্তমানে যে হারে দেশটিতে অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হচ্ছে, এটি আগামী কমপক্ষে ১৮ বছরের জন্য যথেষ্ট।

আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সির মতে, চীন একাই এক চতুর্থাংশ কার্বন নিঃসরণ করে থাকে। চীনের মূল লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের শক্তি উৎপাদনের ২৫ শতাংশ আসবে ফসিলজাত নয় এমন জ্বালানি থেকে। প্রধানত কয়লানির্ভরতার কারণে তাদের কার্বন নির্গমন এখনও বাড়ছে। এভাবে কার্বন নিঃসরণ বাড়তে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণে চীন সর্বোচ্চ অবস্থায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: নীতি সুদহার আবারও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

যদিও আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সি বলছে, চীনকে যদি তার জলবায়ু সংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জন করতে হয়, তাহলে তাকে ২০৬০ সালের মধ্যে কয়লার চাহিদা ৮০ শতাংশেরও বেশি কাটছাঁট করতে হবে। এ বিষয়ে চীনও মূলত একমত হয়েছে যে দেশটি ২০৬০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের ঘরে নিয়ে আসবে। তবে ঠিক কীভাবে চীন কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে দেশটির বর্তমান কয়লার মজুত এ সময়সীমাও অতিক্রম করে যাবে।

চীনের ব্যবহৃত কয়লার অধিকাংশই অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মাধ্যমে জোগান দেয়া হয়, যা প্রতি বছরে ৪ বিলিয়ন টন। তবে দেশটির অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ তাদের উৎপাদনের হারের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ চীন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তেল আমদানিকারক।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে ৮ মাসে সর্বনিম্ন অপরিশোধিত তেলের দাম

দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২১ সালে দেশটির কয়লার মজুত প্রায় ২০৮ বিলিয়ন টন ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ। এ ছাড়া কয়লা অনুসন্ধান ব্যয় ১০ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউয়ান বা ১৮৪ মিলিয়ন ডলারে উঠেছে।

অপরদিকে চীনের জ্বালানি তেলের মজুত ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন টনে পৌঁছেছে, যা পরবর্তী দুই দশকের বেশিরভাগ সময়ের জন্য যথেষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, প্রতি বছর প্রায় ২০০ মিলিয়ন টন তেল উৎপাদন সম্ভব হবে।

এ ছাড়া দেশটিতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতও রয়েছে। যার পরিমাণ ৬ হাজার ৩৩৯ বিলিয়ন কিউবিক মিটার। এটি পরবর্তী ৩ দশকের জন্য পর্যাপ্ত।

তবে বলাবাহুল্য, চীন এখনও তার অধিকাংশ তেল ও গ্যাসের চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে থাকে। 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!