পাচারের সময় মহাবিপন্ন উল্লুক উদ্ধার, পাচারকারী গ্রেফতার
<![CDATA[
কুমিল্লায় পাচারের জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় একটি মহাবিপন্ন উল্লুকসহ এক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল।
রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজারে হোটেল গ্রিন ভিউতে অভিযান চালিয়ে যাত্রীবাহী বাস থেকে উল্লুকটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মো. জুয়েল রহমান সোহেলের (২৭) বাড়ি খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজনগর এলাকায়।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে ফাঁদ পেতে ধরা ৩০০ বক উদ্ধার
সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস।
তিনি বলেন, গ্রেফতারের পর সোহেলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে প্রাণীটির বিষয়ে বন বিভাগকে খবর দেয়া হয়েছে।
এদিকে উল্লুক সম্পর্কে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা জানান, উল্লুক সামাজিক প্রাণী, মানুষের মতো পরিবার প্রথায় অভ্যস্ত এরা। সাধারণত প্রতি তিন বছর অন্তর শীতে বাচ্চা জন্ম দেয় উল্লুক। জন্মের পর শিশু উল্লুকের গায়ের রঙ কিছুটা সাদা থাকলেও কয়েক মাসের মধ্যে পুরুষ উল্লুকের গায়ের রং কালো এবং স্ত্রী উল্লুকের গায়ের রং হলুদাভ বা কিছুটা বাদামী রং ধারণ করে। তবে পুরুষ উল্লুকের গায়ের রং কালো হলেও ভ্রু সাদা রঙের হয়ে থাকে। অন্যদিকে স্ত্রী উল্লুকের মুখের চারপাশে গোল হয়ে সাদা লোমে আবৃত থাকে যা দেখতে অনেকটা মুখোশের মতো লাগে। সাধারণত ৯ বছর বয়সে উল্লুক প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে।
আরও পড়ুন : মুন্সীগঞ্জে জালে ধরা পড়ল ১২ ফুটের অজগর
তিনি বলেন, দেশের সিলেট ও চট্টগ্রামের কয়েকটি বনই উল্লুকের প্রধান আবাসস্থল। নব্বই দশকের দিকে দেশে তিন হাজারেরও বেশি উল্লুক ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু কয়েকবছর আগের একটি গবেষণায় দেখা যায় সেই সংখ্যা ৩০০টিতে নেমে এসেছে যা প্রাণীটির টিকে থাকার ব্যাপারে অশনিসংকেত বলেই ধরে নেয়া যায়।
প্রাণীটি বাংলাদেশে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই উল্লুক বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য এরা সম্পূর্ণভাবে গাছের ওপর নির্ভরশীল। বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে এই প্রাণীটির টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া খাদ্যের অভাব এবং শিকারও এদের সংখ্যা কমে অন্যতম কারণ।
]]>




