ধর্মদ্রোহীদের পুড়িয়ে মারতেন রানি মেরি
<![CDATA[
মেরি টিউডর থেকে ব্লাডি মেরি। একজন রক্তপিপাসু ধর্মান্ধ। সমালোচকদের কাছে, ইংল্যান্ডের মেরি দীর্ঘকাল শুধুমাত্র ‘ব্লাডি মেরি’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে কেন ইংল্যান্ডের রানি মেরি টিউডর পেলেন ব্লাডি মেরির কুখ্যাতি?
ব্লাডি মেরির ইতিহাসের সূচনা শুরু যখন রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে সিংহাসনচ্যুত লেডি জেন গ্রে কে হটিয়ে ৩৭ বছর বয়সী মেরি সিংহাসনে বসেন। একজন নিবেদিতপ্রাণ রোমান ক্যাথলিক ছিলেন রানি মেরি। ক্ষমতা পাওয়ার পরই তিনি ইংল্যান্ডে ক্যাথেলিক ধর্মের রীতি প্রবর্তনের উদ্যোগ নেন। জনমতের দাবি, মেরির ১৭ বছর বয়সে মায়ের প্রতি বাবার তাচ্ছিল্য আর মা ক্যাথেরিনকে একটি পুরাতন দুর্গে নির্বাসিত করায় পিতা রাজা অষ্টম হেনরির প্রতি আর তার প্রতিষ্ঠিত ধর্মের প্রতি ক্ষোভ জন্মায় মেরির। ফলে ক্যাথলিক ধর্মের প্রচলন শুরু করার জন্য তিনি ১৫৫৪ সালে স্পেনের রাজা ফিলিপকে বিয়ে করেন। ফিলিপ তখন ক্যাথলিক ধর্মবিরোধীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাতেন।
ফলস্বরূপ ইংল্যান্ডে শুরু হলো প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান ধর্ম সমর্থনদের ওপর দমন-পীড়ন আর অমানবিক অত্যাচার। শুরু হলো ধর্মদ্রোহীদের আগুনে পুড়িয়ে ফেলার মতো ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞ। জানা যায় মেরির পাঁচ বছরের শাসনামলে তিন শতাধিক ধর্মবিরোধীকে আগুনে পুড়িয়েছেন। কেবল তাই নয় ধর্মদ্রোহীতার শাস্তি কেবল মৃত্যুই নয়, তাদের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ধ্বংসাবশেষের জন্যও ব্যবহার করা নিষিদ্ধ ছিল।
আরও পড়ুন: বুদ্ধিতে বাংলাদেশ বিশ্বে কততম?
তার এমন অমানবিক অত্যাচারের জন্যই তিনি ‘ব্লাডি মেরি’ নামে কুখ্যাতি লাভ করেন। যাকে ইতিহাসে ‘মেরিয়ান পারসিকিউশন’ তথা ‘মেরিয়ান নিপীড়ন’ বলেও আখ্যা দেয়া হয়েছে। যদি একজন ব্যক্তিকেও মেরির কুখ্যাতির জন্য দায়ী করা যেতে পারে, তবে সেটি হবেন প্রোটেস্ট্যান্ট জন ফক্স। ফক্সের বুক অফ মার্টিয়ারসে ক্যাথলিক চার্চের বিশ্বাসের জন্য মারা যাওয়া প্রতিটি শহীদের বিশদ বিবরণ ছিল।
আরও পড়ুন: সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছেন জর্জিনা
দু’বার গর্ভধারণ করলেও সন্তানের জন্ম দিতে অক্ষম মেরিকে ফেলে স্পেনে ফিরে যান ফিলিপ। এদিকে ১৫৫৮ সালে মহামারিতে আক্রান্ত মেরিকে লন্ডনের সেন্ট জেমস প্রাসাদে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেরির মৃত্যুর পর পরবর্তীতে এলিজাবেথ সিংহাসনে বসলে সমগ্র ইংল্যান্ডে আবারো প্রোটেস্ট্যান্ট ধর্মের প্রচলন শুরু হয়।
তথ্যসূত্র: হিস্টোরি
]]>




