বিনোদন

অর্ধেকে নেমেছে সাভার শিল্পাঞ্চলের পোশাকখাতের উৎপাদন

<![CDATA[

সাভার শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকটের কারণে নিটিং, ডায়িং ও টেক্সটাইল কারখানায় উৎপাদন কমে এসেছে অর্ধেকেরও কমে। বিদ্যুৎ সংকটের পর শিল্প খাতে গ্যাসের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শতভাগ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ১০ ভাগ কিংবা শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ফলে এই খাতে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানির চাহিদা পূরণের দাবি জানিয়েছে শিল্প সংশ্লিষ্টরা।

অপরদিকে সংকটের কথা স্বীকার করে আগামী ১ থেকে ২ মাসের মধ্যেই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় তৈরি পোশাক কারখানাসহ টেক্সটাইল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানায় বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের চাহিদা পূরণ না হওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে সমহারে।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৬ মাস ধরে প্রথমে বিদ্যুৎ সংকট ও পরে জেনারেটরে ব্যবহৃত গ্যাসের সংকট তাদের বিপাকে ফেলেছে। এই অঞ্চলে প্রায় ৬ শতাধিক নিটিং ও ডায়িং এবং ৪ শতাধিক টেক্সটাইল কারখানায় বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে গ্যাস জেনারেটর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।

আশুলিয়ার লোটাস ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের জেনারেটর ইনচার্জ গোলাম রসূল বলেন, বর্তমানে গড়ে প্রতিটি কারখানাতে ৫০ থেকে ২০ পিএসআই পর্যন্ত গ্যাসের চাহিদা থাকলেও তারা পাচ্ছেন গড়ে ১ থেকে ৫ পিএসআই পর্যন্ত। এতে দিনের অধিকাংশ সময় কাজ বন্ধ করে অলস সময় পার করছেন এখানকার শ্রমিকরা।

আরও পড়ুন: নিজস্ব গ্যাসের উৎপাদন বাড়ালে জ্বালানি সংকট হতো না, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

সরেজমিনে শিল্পাঞ্চলের প্রায় অর্ধশত কারখানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি কারখানাতেই গ্যাসের সংকট রয়েছে। ফলে উৎপাদনও কমে গেছে অর্ধেকের নিচে। সমস্যায় ভুগলেও শিল্প মালিক ও কর্মকর্তাদের অনেকেই অজানা শঙ্কায় ক্যামেরার সামনে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে গ্যাস সংকটে একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম একটি কারখানার এক কর্মকর্তা জানালেন তাদের নিদারুণ সমস্যার কথা।

লোটাস ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানার ম্যানেজার (অ্যাডমিন) আমির হোসেন বলেন, ৬ মাস ধরে ঠিক মতো বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় শ্রমিক কর্মচারীরা উৎপাদন কাজ করতে না পারায় তাদের মাসিক উপার্জন যেমন কমে এসেছে। তেমনি মালিকপক্ষেরও প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৮০ লাখ টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। তাই অচিরেই এই সমস্যার সমাধান না হলে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাবে। বেকারত্ব বরণ করবে হাজারও শ্রমিক।

আরও পড়ুন: তেল-গ্যাসের সংকট কাটাতে নতুন উদ্যোগ জার্মানির

সাভার আঞ্চলিক তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপক (বিপণন) আবু সাদাত মো. সায়েম শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে একযোগে গ্যাসের ওপর চাপ পড়ায় হাজার হাজার শিল্প কারখানায় সঠিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী ১-থেকে ২ মাসের মধ্যে বিকল্প পদ্ধতির মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করা হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

সাভার তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আওতায় সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই ও গাজীপুরের কাশিমপুরে বৈধ আবাসিক গ্যাস গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৫১ হাজার। শিল্প সংযোগের সংখ্যা রয়েছে ১ হাজারেরও অধিক।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!