কষ্ট নিয়ে দেশ ছাড়বেন কানাডাপ্রবাসী চিত্রশিল্পী
<![CDATA[
কয়েকটা রঙের প্রলেপে ফুটে ওঠা অবয়বটি কারো কারো কাছে শুধু ছবি। তবে চিত্রশিল্পীর কাছে একটা ছবিই তার একটি সন্তানের সমান। ছবিটি যিনি এঁকেছেন তিনি বাংলাদেশি নাগরিক ইফতিখার উদ্দীন আহমেদ। পেশায় একজন চিত্রশিল্পী। থাকেন কানাডায়।
একটা-দুটো নয়, এমন অনেক ছবি এঁকে তা সুদূর কানাডা থেকে বয়ে এনেছেন বাংলাদেশে। উদ্দেশ্য ছিল সোলো আর্ট এক্সিবিশনের মাধ্যমে তুলে ধরবেন নতুন প্রজন্মের কাছে। কিন্তু বাংলাদেশে এসেই খেলেন ধাক্কা। ছবি বিক্রির কারণে নয়, অসহযোগিতাই যার মধ্যে প্রধান। অভিমানের সুরে তাই আওড়ালেন অনেক কথাই।
বাংলাদেশি নাগরিক কানাডাপ্রবাসী চিত্রশিল্পী ইফতিখার উদ্দীন জানান, বাংলাদেশে এসে যে অবহেলা বা ঠেলাগুঁতা খেয়েছেন, সেই কষ্ট নিয়েই তিনি ফের দেশ ছাড়বেন এবং বিদেশে গিয়ে নিজের কাজের জন্য এই কষ্টটাকেই কাজে লাগাবেন তিনি। স্বপ্নাতুর ও আবেগমথিত এক জগতে বাস করে বাস্তব পৃথিবীর সঙ্গে যোগসূত্র তার ধ্যানের অন্যতম বিষয় বলে জানান। তিনি চান শিল্পীরা গণ্ডিতে আটকা না পড়ুক, বিকিয়ে না দিক তাদের স্বকীয়তা।
আরও পড়ুন: জাপানে একটি আম ২ হাজার ডলার, একটি আঙ্গুর ৪০০ ডলার!
বিচ্ছিন্ন সরলরেখা, কলমের আঁকিবুঁকি আর বুননের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহারে অতীত আর বর্তমানের মাঝে যেন কথোপকথন। চক্রাকার বৃত্ত, ধসে পড়া স্তম্ভ, ঘড়ি ও চাবির আপাত-বিমূর্ত কম্পোজিশন। যে ছবির মাঝে বেশি খুঁজে পাওয়া যায় জীবন আর সময়ের ঘূর্ণন প্রক্রিয়া। শিল্পী হিসেবে সম্মানপ্রাপ্তিতে দেশ-বিদেশের ফারাকটা জানালেন নিজেই।
চিত্রশিল্পী ইফতিখার উদ্দীন বলেন, ‘ইউরোপে একজন শিল্পীকে যে চোখে দেখা হয় বাংলাদেশে তেমনটি নয়। এ ছাড়া বাংলাদেশে এসে জানতে পারলাম এখানে সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে, শিল্পীরা বাসায় গিয়ে ফেরি করে ছবি পৌঁছে দিচ্ছেন, এটা ঠিক নয়। শিল্প কি ফেরি করার জিনিস? যারা ছবি কিনছেন এভাবে, তাদেরও এটা ঠিক নয়।’
আরও পড়ুন: সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টেছেন জর্জিনা
চিত্রশিল্পী হিসেবে তার ঝুলিতে আছে প্যারিসের গ্যালারি বিনানোসের ১৯৯৪ সালে আয়োজিত আর্টিস্ট অব দ্য ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার, নবম আশিয়ান আর্ট বিয়েনাল, বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ বিয়েনাল এবং ন্যাশনাল আর্ট এক্সিবিশনের মতো অন্যান্য অনেক পুরস্কার। বিদেশে তার প্রাপ্তির ফিরিস্তি ঢের, কিন্তু ঘরের ছেলে দেশে ফিরে যে কষ্ট পেলেন, সেই কষ্ট নিয়েই নাকি পাড়ি দেবেন অনেকটা পথ।
তিনি বলেন, ‘আমার ইচ্ছা আমার আঁকা ছবি নামকরা কোনো মিউজিয়ামে স্থান পাবে। এবং এটা করার জন্য যতটুকু ধাক্কা প্রয়োজন ছিল, তা বোধহয় দেশে না এলে পেতাম না।’
‘সারচিং ফর স্পেস’ শিরোনামে আলিয়ঁস ফ্রসেজ দো ঢাকার লা গ্যালারিতে আয়োজন করা হয় সলো চিত্র প্রদর্শনীটি। চিত্রকর্ম দেখতে এসে প্রবাসী আরেক চিত্রশিল্পী জানান নিজের ছবিকেই প্রতিদিন ছাড়িয়ে যাচ্ছেন ইফতেখার আহমেদ। একটা ছবি যার গভীরতা সমুদ্রের মতন। ডুবুরির মতো খুঁজে খুঁজে যাকে জয় করতে হয়, আর এই ভাবনায় খুলে দেয় সৃজনশীলতার দুয়ার। তা না হলে যুগে যুগে জয়নুল আবেদিন, পাবলো পিকাসো, লিওনার্দো দা ভিঞ্চির কেনই-বা এত কদর?
কিছু রঙের আঁচড় আর শিল্পীর ভাবনার মিশেলে সৃষ্টি হয় একেকটা চিত্রকর্ম, যার গভীরতা কেবল শিল্পীই জানেন। চিত্রকর্ম শুধু সাজিয়ে রাখার একটি ফ্রেম নয়, এটি ভাবনার জগৎকে প্রশস্ত করার সৃজনশীল অভিনব এক মাধ্যম। যারা বুঝবেন কদর করবেন, যারা বুঝবেন না তাদের কাছে এটা কেবলই ঘর সাজানোর উপকরণ।
]]>




