ফেনীতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে টাকা হাতিয়ে নিলো প্রতারক
ফেনী | তারিখঃ October 2nd, 2022 | নিউজ টি পড়া হয়েছেঃ 142 বার
নিজস্ব প্রতিবেদক->>
ফেনীতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে একটি প্রতারক চক্রের চাঁদা আদায়ের অভিযাগ পাওয়া গেছে। রোববার বিকেল থেকে প্রতারক চক্র তৎপর হয়ে ওঠে। ওই চক্র জনপ্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে কৌশলে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে।
ফেনী সদর উপজলা পরিষদের চয়ারম্যান সদর উপজলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল জানায়, রোববার বিকেলে (০১৯২৯-৬৮৬৩৪৫) এ নম্বর জনৈক ব্যক্তি নিজেকে ফেনীর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে কথা বলে।
পরবর্তীতে তিনি ফেনী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সভাপতি আয়নুল কবির শামীমের নাম্বার খোঁজ করেন এবং তাকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফোন করবেন বল জানিয়ে দিতে বলেন।
এরপরই আয়নুল কবির শামীমকে ওই ব্যক্তি ফোন করে ফেনী শহরের বড় বড় ১০টি মিষ্টি দোকানের ফোন নাম্বারে ৩০ মিনিটের মধ্যে জানাতে বলেন। এসময় মিষ্টি দোকানসমূহে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফোন করবে বলে তাকেও এ তথ্য জানাতে অনুরোধ করেন।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হল আয়নুল কবির এ ব্যাপারে সদর উপজলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন শীল ‘ট্রু কলারের’ মাধ্যমে জানতে পারেন এটি ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নাম্বার নয়।
এসময় শুসেন শীল ঘটনাটি তাৎক্ষনিক জেলা প্রশাসক আবু সলিম মাহমুদ-উল হাসান ও পুলিশ সুপার মো. জাকির হাসানকে অবহিত করেন।
জানা যায়, প্রতারক চক্রটি ফেনী জেলার বিভিন্ন স্থানে ফোন করে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
এদিকে সোনাগাজীতেও মোবাইল ফোনে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ব্যবসায়ীদের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক। রোববার বিকেলে সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের সিএ খোকন চন্দ্র দাস সোনাগাজী বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মো. নুরনবীক ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে ফোন কথা বলিয়ে দেন। পরে সভাপতি নুরনবী ও খোকন চন্দ্র দাসের মাধ্যমে বাজারের মিষ্টি দোকানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করার ভয় দেখিয়ে ফোন করেন।
এ সময় জরিমানা থেকে বাঁচাতে মদীনা সুইটস্ এর মালিক হেদায়ত উল্লাহর কাছে থেকে বিকাশে ১০ হাজার টাকা ও নিউ মধুমেলার মালিক সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
এরপর মনীন্দ্র বাবুর মিষ্টি দোকানের মালিক সমর দাসকে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা চাইলে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মঞ্জুরুল হককে অবগত করেন। নির্বাহী কর্মকর্তা তাৎক্ষনিক বিষয়টি জেলা প্রশাসক আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসানকে অবগত করলে নম্বরটি ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
সোনাগাজী বাজার বনিক সমিতির সভাপতি নুর নবী জানান, ইউএনও অফিস থেকে ফোন দেয়ায় তিনি প্রাথমিকভাবে বিশ্বাস করলেও পরে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় নিজেই ইউএনওকে জানিয়েছেন এবং লোক পাঠিয়ে অন্য ব্যাবসায়ীদেরও সতর্ক করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মনজুরুল হক জানান, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণার বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসককে জানানা হয়েছে। ব্যবসায়ীদেরকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সহকারি পুলিশ সুপার (সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেল) মো. মাশকুর রহমান ও সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদ হোসেন জানান, প্রতারণার বিষয়টি একাধিক ব্যবসায়ী তাদেরকে জানিয়েছেন। তব এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযাগ দেয়নি। লিখিত অভিযাগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।




