ফুটবল মাঠে প্রাণহানি, আজীবন নিষিদ্ধ দুই ক্লাব কর্মকর্তা
<![CDATA[
আর্থিক জরিমানার পর এবার ইন্দোনেশিয়ার ক্লাব আরেমা এফসির দুই কর্মকর্তাকে আজীবন ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করল ইন্দোনেশিয়া ফুটবল ফেডারেশন। এর আগে চলতি মৌসুমে ক্লাবটির হোম ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। পহেলা অক্টোবর আরেমা ও পারসেবায়ার মধ্যকার ম্যাচে সংঘর্ষের ঘটনায় ১২৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া ফুটবল ফেডারেশন।
ফুটবল ইতিহাসে কলঙ্কিত এক রাত পহেলা অক্টোবর। ইন্দোনেশিয়ার কানজুরু-জান স্টেডিয়ামে আরেমা ও পারসেবায়ার লিগের ম্যাচ শেষে ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত এক ঘটনা। দুই দশকের বেশি সময় পর পারসেবায়ার কাছে হারের লজ্জায় ডোবে স্বাগতিক দল আরেমা। যেই হার সহজে মেনে নিতে পারেনি দলটির সমর্থকরা।
ক্ষুব্ধ হয়ে একপর্যায়ে মাঠে নেমে পড়ে দর্শক। তাতেই ঘটে যত বিপত্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় স্টেডিয়ামের বেশ কয়েকটি গেট বন্ধ থাকায় সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তার মধ্যে স্টেডিয়ামে সেদিন ছিল অতিরিক্ত দর্শক। বাইরে বের হতে না পারায় হুড়োহুড়িতে পদদলিত ও শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণহানি ঘটে ১২৫ জনের।
আরও পড়ুন: হামজা চৌধুরীকে পেতে ইংলিশ ক্লাবকে চিঠি দিল বাফুফে
ঘটনা তদন্তে এরপর কাজ শুরু করে ইন্দোনেশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। কারা এই ঘটনার পেছনে রয়েছে তাদেরকে খুজেঁ বের করতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটিও। এরই মধ্যে চলতি মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত আরেমা হোম ভেন্যুতে কোনো ম্যাচ আয়োজন করতে পারবে না এমন নিষেধাজ্ঞাও দেয়া হয়েছে। এবার ক্লাবটির দুই কর্মকর্তাকে আজীবনের নিষিদ্ধ করেছে ইন্দোনেশিয়া ফুটবল ফেডারেশন।
ইন্দোনেশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আহমাদ রিয়াদ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘সেদিনের আয়োজক কমিটির প্রধান আবদুল হারিসকে ফুটবলের সব রকম কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হলো। আমরা সবাই মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
ঘটনার পর লিগা ওয়ানের খেলা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে ইন্দোনেশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এ ছাড়া আরেমা এফসিকে ২৫০ মিলিয়ন ইন্দোনেশিয়ান রুপি জরিমানা করে সংস্থাটি। এখন অপেক্ষা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পর্যবেক্ষণের।
আরও পড়ুন: ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানে বাংলাদেশের সাফ জয়ের কথা
ইন্দোনেশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ডিসিপ্লিনারি কমিটি প্রধান এরউইন টোবিং এ বিষয়ে বলেন, ‘ফিফা এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সঙ্গে কথা হয়েছে আমাদের। তারা খুব শিগগির এখানে এসে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করবে। আশা করি, ফিফা বুঝবে আমাদের পরিস্থিতি। সেদিন যে ঘটনাটা ঘটেছিল, তা সরকার ও পুলিশের সহায়তায় দ্রুত সমাধান করা গেছে। আর এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক।’
ফুটবল ইতিহাসে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান বিশ্বের ফুটবলসংশ্লিষ্টদের।
]]>




