খেলা

বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা, কাঁদছেন প্রতিবেশীরাও

<![CDATA[

মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সময় পুঁতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্য শরীফুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচির বেড়া খারুয়া গ্রামজুড়ে চলছে শোকের মাতম। অকালে সন্তান হারানোর শোক কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছেন না শরীফুলের মা-বাবা।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) শরীফুলের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, শরীফুলের মা পাঞ্জু আরা বেগম নির্বাক হয়ে পড়েছেন। নিহত ছেলের ছবির দিকে তাকিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা লেবু শেখ। সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ শোনার পর থেকে বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। নীরবে শুধু চোখের পানি ফেলছেন শরীফুলের স্ত্রী।

শরীফুলের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কাঁদছেন প্রতিবেশীরাও।

আরও পড়ুন : তিন বাংলাদেশির প্রতি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের শেষ শ্রদ্ধা

নিহত শরীফুলের ছোট ভাই কাওসার জনান, ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন শরীফুল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শান্তিরক্ষা মিশনে যান তিনি। মিশনে যাওয়ার ৬ মাস আগে বিয়ে করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে শরীফুল সবার বড়। মিশন থেকে ফিরে একমাত্র বোন লাকি খাতুনের বিয়ে দেয়ার কথা ছিল। 

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনার সময় সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের বোয়ার এলাকায় স্থানীয় সময় সোমবার (৩ অক্টোবর) রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টা ৩৫ মিনিটে) বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের একটি গাড়িতে ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ হয়। এতে ৩ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন।

আরও পড়ুন : তিন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মৃত্যুতে জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক

নিহতরা শান্তিরক্ষীরা হলেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানার কাটিঙ্গা গ্রামের জসিম উদ্দিন, নীলফামারীর ডিমলা থানার দক্ষিণ টিটপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার বাড়াক রুয়া গ্রামের শরীফ হোসেন।

অপরদিকে, এ সময় গুরুতর আহত হয়েছেন শান্তিরক্ষী মেজর আশরাফুল হক।
 

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!