খেলা

মধ্যরাত থেকে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

<![CDATA[

‘মা ইলিশ রক্ষা পেলে, বারো মাস ইলিশ মিলে’ স্লোগানে বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে দেশের নদ নদীগুলোতে ইলিশ শিকার, সংরক্ষণ ও পরিবহনে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ নিষেধাজ্ঞা।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়া হলেও অসাধু মৌসুমি জেলে সিন্ডিকেট এবারও তৎপর রয়েছে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ ধরতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। এ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শত শত ট্রলার, সি-বোর্ট ও নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল নিয়ে মৌসুমি জেলেরা এখন ইলিশ শিকারের অপেক্ষায় রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ও বাঘড়া লৌহজংয়ের গাওদিয়া, টঙ্গীবাড়ি, সদর ও গজারিয়া পদ্মা ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় এখন মৌসুমি ইলিশ শিকারিদের সাজ সাজ অবস্থা দেখা যাচ্ছে। নদীতে ইলিশ ধরতে বিভিন্ন নৌকা, ট্রলার, সিবোর্ট, জাল ও জনবল ইতিমধ্যেই গুছিয়ে নিয়েছে তারা। এ কাজে জনবলের জন্য এলাকায় গোপনে অগ্রিম দাদন দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় প্রায় ৫ শতাধিক নৌকা, ট্রলার ও সিবোর্ট প্রস্তুত রয়েছে বিভিন্ন ঘাট ও চর এলাকার নদী তীরে। অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে এসব নৌযানে লাগানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন শ্যালো ইঞ্জিন।

একটি সূত্র জানায়, শ্রীনগরের বাঘড়া ও ভাগ্যকুলে ৩ শতাধিক ইলিশ ধরা নৌকা ও ট্রলার রয়েছে। মৌসুমি ইলিশ শিকারিরা এসব নৌযান প্রস্তুত রেখেছে অবৈধভাবে পদ্মায় ইলিশ ধরতে। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ শিকার করতে অনেক নৌযানের আগের ইঞ্জিন পরিবর্তন করে লাগানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ইঞ্জিন। সেই সঙ্গে শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌ রুটের বসে থাকা সি-বোর্টগুলোর অধিকাংশই অভিযানের এ ২২ দিনের জন্য প্রতিবারের মতো ভাড়ায় নিয়েছে মৌসুমি ইলিশ শিকারিরা। তবে যারা প্রকৃত ইলিশ শিকারি জেলে তারা পদ্মায় ইলিশ না ধরতে প্রতিজ্ঞা করেছে প্রশাসনের কাছে।

আরও পড়ুন: প্রজনন মৌসুমের নিষেধাজ্ঞার আগে ইলিশ নিয়ে ফিরছেন জেলেরা

স্থানীয়রা জানায়, প্রতি বছরের মতো এবারও জেলেরা আইন অমান্য করে নদীতে নামার প্রস্তুতি নিয়েছে। সুযোগ বুঝেই এসব অসাধু জেলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা নৌকা নিয়ে ইলিশ ধরতে পদ্মা ও মেঘনায় নামবে। নৌকায় জনবল সংগ্রহের জন্য জেলেরা এলাকায় গোপনে দাদন দিয়েছে।

এদিকে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার তথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্ততি নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে গঠন করা হয়েছে ট্রাস্কর্ফোস। নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, মৎস্য বিভাগ, প্রশাসনসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় থাকছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ইতিমধ্যে ইলিশ শিকারি জেলেদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা হয়েছে জেলার পদ্মা মেঘনা তীরবর্তী উপজেলার জেলেদের সঙ্গে।

এর আগে মঙ্গলবার লৌহজংয়ের গাঁওদিয়ায়া নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শফিকুর রহমান জেলেদের সাথে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বলেছে, আমরা চাই না দরিদ্র জেলেরা জেল খাটুক। মা ইলিশ রক্ষায় নৌ পুলিশ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সারা দেশের নদ নদীতে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা আইন অমান্য করে ইলিশ শিকার করবে, তাদের ধরে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শামশুল করিম জানিয়েছেন, অভিযানের এ সময়ে ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, সংরক্ষণ ও পরিবহন থেকে বিরত থাকতে আমরা জনসচেতনতা মূলক মাইকিং করছি। ইতিমধ্যে সভা-সমাবেশ করেছি। টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, থানা পুলিশ, আনসারসহ প্রশাসন এ ২২ দিন কঠোর অবস্থানে থাকবে মা ইলিশ রক্ষায়।

জেলায় মোট ১০ হাজার ৬০০ মাছ ধরা তালিকাভুক্ত জেলে রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৬০০ ইলিশ ধরা জেলে রয়েছে। এ ২২ দিনের জন্য ৩ হাজার জেলেকে প্রণোদনা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!