নকল সাপ্লাই, প্রশ্নফাঁস, ধর্ষণ–নানা অপরাধে কাঠগড়ায় শিক্ষকরা
<![CDATA[
নকল সাপ্লাই থেকে প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ। প্রশ্নফাঁস থেকে ধর্ষণ–নানা অপরাধে জড়িয়ে শিক্ষকরা এখন দুদক ও আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াচ্ছেন। আর বিচার না হওয়ায় অপকর্ম বাড়ছে বলে মত অপরাধ বিশ্লেষকদের। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া আর স্বতন্ত্র বেতন কাঠামোসহ শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের পরামর্শ শিক্ষাবিদদের।
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর বোর্ডের প্রশ্নফাঁসের লঙ্কাকাণ্ডে জড়িয়েছেন কুড়িগ্রামের নেহাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমানসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক। ঘটনার দুদিন না যেতেই পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালিতে পরীক্ষার হলে নকল সরবরাহের অভিযোগ পুলিশের হাতে আটক হন তিন শিক্ষক।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, গেল নভেম্বরে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের চক্রের নাটেরগুরু হিসেবে নাম আসে বুয়েটের অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধরের। তার অ্যাকাউন্টে পাওয়া যায় প্রশ্ন বেচাকেনার ১০ কোটি টাকা।
আর শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিদিনই গণমাধ্যমে শিরোনাম হচ্ছেন শিক্ষকরা। শিক্ষকদের দুর্নীতির ফিরিস্তি এলাকা ছাড়িয়ে এখন পৌঁছেছে দুদকে।
আরও পড়ুন: এসএসসি পরীক্ষার্থীকে অপহরণের পর ধর্ষণ, প্রধান শিক্ষক পলাতক
তাদের শাস্তি চেয়ে শিক্ষক প্রতিনিধিরা বলছেন, তারা শিক্ষক নামের কলঙ্ক, তারা দেশ ও জাতির শত্রু। এক ধরনের মোহ থেকে ভয়াবহ এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন তারা।
আর অতীত অপরাধের বিচার না হওয়ায় একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধকে যদি জোরপূর্বক সমঝোতা বা মীমাংসা করা হয়, তাহলে অপরাধ প্রবণতা বাড়তে থাকে। অতীতের ঘটনাগুলোতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কেউ পায়নি, তাই এগুলো বাড়ছে।
শিক্ষাবিদরা বলছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকে পুঁজি করে সুযোগসন্ধানীরা শিক্ষকতা পেশার ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষক নিয়োগে বড় ধরনের বাণিজ্য হয়। যারা আসলেই শিক্ষক হতে চান, তারা বাণিজ্য করে এ পেশায় আসেন না।
এ ছাড়া অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।
]]>




