রাজবাড়ীর ২৫ গ্রামের ভরসা খেয়ানৌকা
<![CDATA[
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মরাপদ্মা নদীতে মান্নান গাছির খেয়াঘাট এলাকায় জনগুরুত্বপূর্ণ সেতুর নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে। এতে ওই অঞ্চলের ২৫টি গ্রামের হাজারও মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। তাই খেয়ানৌকাই তাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান-গোপালপুর ইউনিয়নের সঙ্গে গোয়ালন্দের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মান্নান গাছির খেয়াঘাটে প্রতিদিন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। খেয়াঘাটের দুপাশে একাধিক হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাছাড়া এ অঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবার জন্য নিয়মিত রাজবাড়ী ও ফরিদপুর শহরে যাতায়াত করে থাকেন। দ্রুত ও স্বল্প সময়ে যাতায়াতের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ এ খেয়াঘাট ব্যবহার করেন। দ্রুত ও নিরাপদে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নিত্যকার সেবা পেতে এলাকাবাসী একটি সেতু নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে আসছিলেন। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সেতুর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে সরকারিভাবে এখানে একটি সেতুর বরাদ্দ দেয়া হয়। দাফতরিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের মেসার্স রূপালী কনস্ট্রাকশন ২কোটি ৮৪ লাখ ৯ হাজার ১২৫ টাকা বরাদ্দের কাজটির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত হয়। ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কাজটির উদ্বোধন করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ২৬ জুলাই তারিখে। কিন্তু নির্মাণকাজ শুরুর পর দীর্ঘদিন থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। এতে হাজারো মানুষের ভোগান্তি যেন শেষ হচ্ছে না। ফলে স্থানীয়দের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: ৪ কোটি টাকার নির্মাণাধীন ব্রিজ ধসে শ্রমিক নিহত
এলাকার বাসিন্দা আবদুল আজিজ, নইমদ্দিন শেখ, চিত্ত কুমার দাস ও রহিম মন্ডল বলেন, অন্তত ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এই খেয়াঘাট দিয়ে যাতায়াত করেন। ব্রিজ না থাকায় গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক পথ ঘুরতে হয়। নৌকায় শুধু মানুষ যাতায়াত করে। ভারী কোনো পণ্য নেয়া সম্ভব নয়। রাতে নৌকায় জরুরি রোগী হাসাপাতালে নেয়া অবর্ণনীয় কষ্টের। ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে দীর্ঘ তিন বছরেও ব্রিজের কাজ শেষ হয়নি। দ্রুত ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাই আমরা।
এলজিইডি উপসহকারী প্রকৌশলী মো. গঞ্জুর আলী খান বলেন, মান্নান গাছির ঘাটে ৬০ মিটার ব্রিজের কাজ কিছুদিন বন্ধ থাকলেও এখন মালামাল মজুত করা হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু করা হবে।
]]>




