বাংলাদেশ

দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়াল!

<![CDATA[

শুধু নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বিলুপ্তের শঙ্কা কাটিয়ে গত এক দশকে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন যেমন দ্বিগুণ হয়েছে, তেমনি আকারে বেড়ে হয়েছে তিন গুণ। এখন বছরে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় লাখ মেট্রিক টন ইলিশ আহরণ করা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি। আর সহজেই মিলছে দুই থেকে তিন কেজি ওজনের ইলিশ। অথচ আগে কোনোভাবেই তিন লাখ মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ মিলত না। এমনকি ইলিশ বিলুপ্তেরও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল।

ইলিশ শিকারে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে সাগর থেকে ট্রলার ও জাল নিয়ে কূলে ফিরছেন জেলেরা। আরও অন্তত ২০ দিন মাছ ধরার পরিবর্তে উপকূলেই সময় কাটাবেন তারা। এরই মধ্যে সেলাই করে নেবেন সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ছিঁড়ে যাওয়া জালগুলোও।

সাগর এবং নদীতে মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় বছরজুড়ে চলে সরকারি নানা বিধিনিষেধ। অন্তত চার ভাগে বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১৪৮ দিনই মাছ ধরতে পারেন না জেলেরা। এখন মূলত বাংলা সনের আশ্বিন মাসের শেষ পূর্ণিমা এবং আসছে কার্তিকের অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ার সামনে রেখেই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। এর আগে অবশ্য মার্চ ও এপ্রিল মাসে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ছিল।

আরও পড়ুন: সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে ইলিশ, দাম চড়া

নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল

মাস                                              নিষেধাজ্ঞার কারণ                                                             নিষেধাজ্ঞার সময় কাল
মার্চ ও এপ্রিল মাস                        অভয়াশ্রম সংরক্ষণ                                                           ৬০ দিন
২০ মে থেকে ২৩ জুলাই              সাগরে ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র সংরক্ষণ                             ৬৫ দিন
অক্টোবর                                      মা ইলিশ সংরক্ষণ                                                               ২২ দিন   
১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন            জাটকা জাটকা রক্ষায় ৪ ইঞ্চি ব্যাসের জাল নিষিদ্ধ           ৮ মাস

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন ফিশারিজ বিভাগের প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেন, ইলিশ যাতে নির্বিঘ্নে ডিম ছেড়ে আসতে পারে, এটা সুগম করার জন্য এখানে ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ করা হয়েছে।

মৎস্য গবেষকদের মতে, দেড় দশক আগে নির্বিচারে মা ইলিশ এবং জাটকা নিধনের কারণে সাগরে ও নদীতে ইলিশ মাছের তীব্র সংকট দেখা দেয়। এমনকি ইলিশ বিলুপ্তের শঙ্কার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞার ফলে গত এক দশকে ইলিশের উৎপাদন বেড়ে এখন ৬ লাখ মেট্রিক টনের কাছাকাছি। অথচ ২০১০ সালে এর পরিমাণ ছিল পৌনে তিন লাখ মেট্রিক টন।

আরও পড়ুন: এক চাঁদপুরই যেন ঘুরিয়ে দিলো বাংলাদেশের ইলিশের চিত্র!

ইলিশের রাজ্য বাড়ছে

সাল                                                                          আহরিত মাছের পরিমাণ

২০১৭                                                                       চার লাখ ৯৬ হাজার মেট্রিক টন
২০১৬                                                                      তিন লাখ ৯৪ হাজার মেট্রিক টন
২০১৫                                                                      তিন লাখ ৮৭ হাজার মেট্রিক টন
২০১৪                                                                      তিন লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন ফিশারিজ বিভাগের প্রফেসর ড. এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘বাজারে আমরা ২ থেকে আড়াই কেজির ইলিশ এখন অহরহ দেখতে পাই। স্বাভাবিকভাবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কার্যকরী পদক্ষেপগুলো নেয়ার ফলে এটা একটা বিশাল সুফল বয়ে এনেছে।’

সাগর এবং নদীতে মাছ ধরার জন্য ৪২ হাজার বড় ট্রলার এবং ২৫ হাজার মাঝারি আকারের নৌকার অনুমতি দিয়েছে সরকার। আর এসব জলযানে নিয়োজিত রয়েছে ১০ লাখের বেশি জেলে। তালিকার বাইরে রয়ে গেছে আরও কয়েক লাখ জেলে। মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা চলাকালে এসব জেলেকে সরকারি সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

চট্টগ্রামের সামুদ্রিক মৎস্য আহরণকারী বোট মালিক সমিতির মহাসচিব আমিনুল হক বাবুল সরকার বলেন, ‘প্রচুর পরিমাণে সাহায্য প্রয়োজন, যাতে তারা (জেলেরা) দুর্বল না হয়ে যান, নিজেদের অসহায় মনে না করেন।’

বিশ্বে মোট ইলিশের ৮৬ থেকে ৯১ শতাংশই বাংলাদেশে আহরিত হয়। আর ইলিশের প্রজনন সুবিধার্থে নদীর পাশাপাশি সাগরে ৬টি অভয়াশ্রম চিহ্নিত করা হয়েছে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!