বরিশাল মৎস্য অধিদফতরের ৩৭০ পদের বিপরীতে খালি ১৯০টি
<![CDATA[
বরিশাল বিভাগের জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিসে মোট ৩৭০ পদের মধ্যে খালি আছে ১৯০টি। এসব পদের মধ্যে কর্মকর্তাদের ১৭০ পদের বিপরীতে ১০২টি খালি রয়েছে। আর কর্মচারীদের ২০০ পদের বিপরীতে খালি রয়েছে ৯০টি। গুরুত্বপূর্ণ পদ খালি থাকায় অফিসগুলোতে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিভাগে আড়িয়াল খাঁ, তেঁতুলিয়া, তুলাতলি, আন্ধারমানিক নদীর একটি বড় অংশে ইলিশের অভয়ারণ্য রয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময় অভিযান পরিচালনা করার ক্ষেত্রে বেশ সমস্যা পোহাতে হচ্ছে।
বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, বিভাগের বিভিন্ন অফিসে ১৭০ জন কর্মকর্তা থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৬৮ জন। বাকি ১০২টি পদই শূন্য। এর মধ্যে ৭ জন সিনিয়র সহকারী পরিচালক থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১ জন। বাকি ৬টি পদ শূন্য। এ ছাড়া সহকারী পরিচালকের ৪টি পদের মধ্যে ২টি শূন্য রয়েছে। একইভাবে উপসহকারী পরিচালকের ৬টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৫টি। সিনিয়র উপজেলা মৎস কর্মকর্তার ২১টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ২টি। উপজেলা মৎস কর্মকর্তার ২১টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৪টি। মৎস সম্প্রসারণ কর্মকর্তার ৬টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৬টি। মৎস সম্প্রসারণ ও মাননিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তার ৩৬টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৩৬টি। খামার ব্যবস্থাপকের ৯টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৯টি। সহকারী মৎস্য কর্মকর্তার ৪২টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৩২টি। উপসহকারী প্রকৌশলীর ৪টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৩টি। মৎস্য জরিপ কর্মকর্তার ৬টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৬টি।
আরও পড়ুন: চরম দুশ্চিন্তায় বরিশাল বিভাগের পাঁচ লাখের বেশি জেলে
এদিকে বিভাগের বিভিন্ন অফিসে ২০০ কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ১১০ জন। বাকি ৯০টি পদই শূন্য। এর মধ্যে ৬ জন প্রধান সহকারী থাকার কথা থাকলেও আছে মাত্র ৪ জন, বাকি ২টি পদ শূন্য। সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটরের ১টি পদও শূন্য। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের ৫৮টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৩৭টি। ক্ষেত্র সহকারী ৪৮টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ১৭টি। স্পিডবোট চালকের ৩টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ২টি। পাম্প অপারেটরের ৮টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৩টি। হ্যাচারি সহচরের ৭টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৩টি। অফিস সহায়কের ৪৯টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ২২টি। নৈশপ্রহরীর ৫টি পদের মধ্যে শূন্য আছে ৩টি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের জনবল কিছুটা সীমিত স্বীকার করছি। বর্তমানে মা ইলিশ রক্ষার অভিযান চলছে। এমন সময় জনবল কম থাকায় উপজেলা থেকে জেলা পর্যন্ত আমাদের সবারই কিছুটা মানসিক চাপে থাকতে হচ্ছে। তবে লোকবল কম থাকার কারণে আমাদের অভিযানে কোনো প্রভাব পড়ছে না, এমনকি পড়বেও না।’
আরও পড়ুন: বরিশালে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ
তিনি বলেন, ‘ইলিশ রক্ষার আইন যারা না মানবে সবাইকেই শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে এবং হবে। যদিও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে সাময়িক সংযুক্তিতে কিছু কর্মকর্তাকে পদায়ন করেছে। আশা করছি দ্রুত পদগুলো স্থায়ীভাবে পরিপূর্ণ করার জন্য তারা উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদফতরের উপপরিচালক আনিছুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘বর্তমানে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ৬ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দিনরাত আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। ২২ দিনের এ অভিযান সফল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আমাদের সহায়তা করে যাচ্ছে। তবে নিজেদের জনবল সংকট এমন সময়ে কিছুটা হলেও অনুভব করছি। ফলে বর্তমানে যারা কর্মরত আছে, সবার ওপরই চাপ বেশি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। আশা করি দ্রুত তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
]]>




