পিরোজপুরের লাশকাটা ঘর নিজেই যেন লাশ!
<![CDATA[
ঘাড় ছাড়া মাথা আর ডোম ছাড়া মর্গ দুটি বিস্ময়ের বিষয় হলেও পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের অবস্থা এখন তাই যেন। মূল ডোম অবসরে গেলে তার ছেলেকে দিয়েই চলছে এ গুরুত্বপূর্ণ কাজটি।
আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে এসেও আধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের মর্গ। এ মর্গে নিয়মিত মরদেহ এলেও ডোমের পদটিও খালি দীর্ঘদিন ধরে। হিমঘর তো দূরের কথা, নেই পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থাও। ড্রেনেজ সিস্টেম ও বর্জ ব্যবস্থাপনা না থাকায় রক্ত-বর্জ এলাকায় ছড়িয়ে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলে সেখানে মরদেহের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই। উন্নতমানের তেমন কোনো যন্ত্রপাতি না থাকায় মরদেহ কাটতে বিপাকে পড়তে হয় তাদের।
জেলা হাসপাতালের মর্গটি হাসপাতাল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে থাকলেও ডাক্তারদের পরিবহনে নেই কোনো সরকারি ব্যবস্থা। ফলে পরিবহন নিয়ে ডাক্তারদের প্রায়ই পড়তে হয় বিপাকে। তাই সমস্যার আরেক নাম পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গ।
পিরোজপুর শহরের বাসিন্দা মনির শেখ, গত বছরের নভেম্বর মাসে তার ভাই খুন হন। ভাইয়ের পোস্টমর্টেম করাতে গিয়ে যে ধরনের হয়রানের শিকার হন তা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ভাই যেদিন বিকেলে খুন হয় তার পরদিন বিকেলে ময়নাতদন্ত করা হয়। এ সময় ভাইয়ের মরদেহ কোথায় রাখব সে নিয়ে ছিল এক সমস্যা অন্যদিকে পুলিশের দ্বারে দ্বারে দৌঁড়ানো, ডাক্তারের পেছন পেছন ঘোরা এবং ডোমের চাহিদার ৬ হাজার টাকার ব্যবস্থা করা, সব মিলিয়ে আমার এক দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। যা মনে হলে এখনও কান্না পায়। আমি সামান্য একজন চায়ের দোকানদার আমার পক্ষে ৬ হাজার টাকা দেয়া সম্ভব ছিল না। তারপরেও বিভিন্ন লোকের কাছে ধার করে ৬ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হই। সে অভিজ্ঞতা খুবই কষ্টের ছিল।’
আরও পড়ুন: ডোম উধাও, মর্গে জমে আছে মরদেহ, স্বজনদের ক্ষোভ
পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. নিজাম উদ্দিন জানান, মর্চুয়ারী সিস্টেম না থাকায় কখনও কখনও মরদেহ আসতে সন্ধ্যা হয়ে গেলে তাতে পচন ধরে। আধুনিক ফরেনসিক যন্ত্রপাতির সংকট ও ডোমের পদ খালি থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হয় কর্তৃপক্ষকে। তাছাড়া, বর্তমান লাশকাটা ভবনটি পুরাতন ও ব্যবহার অনুপযোগী। হাসপাতালের কাছেই পৌর শ্মশানের পাশে পর্যাপ্ত জায়গা আছে। সেখানে মর্গ নির্মাণ হলে সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব।
সিভিল সার্জন ডা. হাসনাত ইউসুফ জাকী বলেন, ‘মাঝে মাঝে সন্ধ্যায় মরদেহ এলে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়। সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশাকরি শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।’
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ মর্গে মোট ১৩৯টি মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
]]>




