ফেনীতে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা, পুলিশের জালে গ্রেপ্তার সুমন সাহা
সোনাগাজী প্রতিনিধি->>
নিজেকে কখনও সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট অথবা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতো সুমন সাহা (৩২)। শনিবার ফেনীর সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের হাতে তিনি গ্রেফতার হন। খুলনাতে বসবাস করলেও সে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এ চাঁদাবাজি করতো। তিনি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া থানার উত্তরমাছুয়া খেজুরবাড়িয়ার বাসিন্দা শ্যামল কুমার সাহার ছেলে। বর্তমানে নগরীর ১নং ইস্পাহানী লেন একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসাবে বসবাস করছিল।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারক সুমন সাহা জানায়, সে দীর্ঘদিনযাবত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভাপতি-সেক্রেটারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে দেশের বিভিন্ন স্থানে হোটেল, মিষ্টির দোকান, ভোগ্যপণ্যের ও বিভিন্ন ধরনের দোকানদারদের ফোন দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান বা মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করার কথা বলতেন। একপর্যায়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের আতঙ্কিত করে সুকৌশলে মোবাইল ফোন (বিকাশ/নগদ) নম্বরে টাকা হাতিয়ে নিতো। তিনি গুগল সার্চ দিয়ে এসকল ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাদেরকে ফোন দিয়ে থাকতো। এছাড়া বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে রেজিস্টিকৃত মোবাইল সিম সংগ্রহপূর্বক তার প্রতারণার কাজে ব্যবহার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামির নিকট থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল সেট ও দুইটি সীম উদ্ধার করা হয়।
প্রতারক আরো জানায় যে, প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ও সীম প্রতারণা শেষে ভেঙে বা বিনষ্ট করে ফেলতেন। গ্রেফতারকৃত প্রতারককে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তার অপরাধকৃত কর্মের কথা স্বীকার করে।
পুলিশ জানায়, গত ২ অক্টোবর অজ্ঞাত এক ব্যক্তি সোনাগাজী বাজার বনিক সমিতির সভাপতি নুর নবীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানায়, তিনি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং সোনাগাজী বাজারে বিভিন্ন দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। উক্ত ব্যক্তি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিকে মদিনা মিষ্টিমেলা নামক দোকানের মালিকের সাথে কথা বলিয়ে দিতে বলে। তখন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মদিনা মিষ্টিমেলার দোকানের মালিক মো. হেদায়েত উল্যাহ-এর সাথে কথা বলিয়ে দেয়। উক্ত প্রতারক কৌশলে হেদায়েত উল্যাহ-এর সাথে কথা বলে তার ব্যবহৃত ফোন নম্বর ০১৮২৪-৩৩৯৫২৩ সংগ্রহ করে নেয়। সরাসরি ফোন দিয়ে নিজেকে পুনরায় ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম আজাদ পরিচয় দিয়ে ওই মিষ্টির দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানায় হেদায়েত উল্যাহকে। হেদায়েত উল্যাহ সরল বিশ্বাসে কথিত ম্যাজিস্ট্রেটকে তার দোকানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা না করার জন্য অনুরোধ করেন। কথিত এ ম্যাজিস্ট্রেট তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর ০১৯২৯-৬৮৬৩৪৫ এর নগদ একাউন্টে ১০ হাজার টাকা পাঠানোর জন্য বলেন। কথিত ম্যাজিস্ট্রেটের বাচন ভঙ্গি, কথা বলার স্টাইল, সর্বোপরি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে বিভ্রান্ত হয়ে সরল বিশ্বাসে মোঃ হেদায়েত উল্যাহ ২ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে ০১৯২৯-৬৮৬৩৪৫ নম্বরে দুই হাজার টাকা প্রেরণ করেন।
এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী মহলে সন্দেহ সৃষ্টি হলে স্থানীয় সোনাগাজী বাজার বণিক সমিতির সদস্যরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সংক্রান্তে কোন পরিকল্পনা নেই। সিজিএম পরিচয় দিয়ে কোন অজ্ঞাত প্রতারক টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য ফোন দিয়েছে সন্দেহ হলে বিষয়টি তাৎক্ষণিক ব্যবসায়ীরা সোনাগাজী মডেল থানাকে অবহিত করেন।
সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদ হোসেন কলেন, সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারেন ওই প্রতারকের অবস্থান খুলনা মহানগরী এলাকায়। প্রতারককে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য খুলনা মহানগর পুলিশকে অনুরোধ করে পুলিশ। শনিবার সকালে খুলনা থেকে গ্রেফতার করে তাকে সোনাগাজী মডেল থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।




