ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আ.লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থী মুখোমুখি
<![CDATA[
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর অংশগ্রহণে বাড়তি আমেজ তৈরি হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে উভয় প্রার্থীরই জয়ী হওয়ার আশা। এখন অপেক্ষা নির্বাচনের। প্রশাসন বলছে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (১৭ অক্টোবর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচন। অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। সোমবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলার ৯টি উপজেলার পৃথক ৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীসহ মোট ৫৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আল মামুন সরকার আনারস প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। দলের তৃণমূল থেকে উঠে আসা আল মামুন সরকার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের ভিপি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কৃষকলীগের আহবায়ক ছিলেন। সমাজসেবায় তিনি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তিনি জেলার ৯টি উপজেলাতেই ভোটারদের কাছে প্রচারণা চালিয়েছেন।
অন্যদিকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল আলম মোটর সাইকেল প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি গত জেলা পরিষদ নির্বাচনেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলের মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ এ.কে.এম এমদাদুল বারীকে (বর্তমানে প্রয়াত) হারিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। মেয়াদ শেষে তিনি পুনরায় জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত হন। এ বছরও তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীকে হারিয়ে জয়লাভ করায় তিনি বেশ আশাবাদী। শফিকুল আলম জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে দলে তার কোন পদ পদবী নেই।
বিদ্রোহী প্রার্থী শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, আমি চাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। গত নির্বাচনেও আমি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছিলাম। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে এবারও জয়ী হবো ইনশাল্লাহ।
আরও পড়ুন: জেলা পরিষদ নির্বাচন সোমবার, সিসি ক্যামেরায় মনিটর করবে ইসি
দলের মনোনীত প্রার্থী আল মামুন সরকার বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছে। ইনশাল্লাহ নির্বাচনে আমি জয়ী হবো।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও জেলা নির্বাচন অফিসার মো. জিল্লুর রহমান বলেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। নির্বাচন উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইনশাল্লাহ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীন বলেন, জেলার ৯টি ভোট কেন্দ্রের প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ছয়জন অস্ত্রধারী পুলিশ, ১৭ জন আনসার, সাতজনের একটি মোবাইল টিম, আট সদস্য বিশিষ্ট একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি স্ট্যান্ডবাই টিম থাকবে। এছাড়াও থাকবে বিজিবি ও র্যাবের একাধিক টিম।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১০০টি ইউনিয়ন, ৯টি উপজেলা ও ৫টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৩৯৬ জন। ভোটারদের মধ্যে নাসিরনগর উপজেলায় ১৭২, সরাইল উপজেলায় ১২০, আশুগঞ্জ উপজেলায় ১০৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় ১৬২, বিজয়নগর উপজেলায় ১৩৩, আখাউড়া উপজেলায় ৮১, কসবা উপজেলায় ১৪৬, নবীনগর উপজেলায় ২৮৮ ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ১৮৪ জন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন।
]]>




