বাংলাদেশ

‘ভাড়া কমিয়ে বিপাকে আছি’ বললেন ইউপি চেয়ারম্যান

<![CDATA[

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কয়া ইউনিয়নের গড়াই নদের ঘোড়াঘাটে নৌকা পারাপারের ভাড়া হঠাৎ ৬ টাকার পরিবর্তে ১৪ টাকা নেয়ায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে ঘাট পরিচালনাকারী সদস্য মো. ওলি উল্লাহ বলেন, ভাড়া বাড়িয়ে ২০ টাকা প্রজ্ঞাপন দিলে চেয়ারম্যান ১৪ টাকা নির্ধারণ করে দেন।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় ঘোড়াঘাট এলাকায় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ইউনিয়ন জনগণের পারাপার অধিকার আদায় কমিটি আয়োজিত কর্মসূচিতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কয়া ইউনিয়ন জনগণের পারাপার অধিকার আদায় কমিটির আহ্বায়ক রাসেল হোসেন আরজুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন পারাপার অধিকার আদায় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক এসানুর রহমান রিপন ও রাসেদ আলম, সদস্য রনজু আহমেদ, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য নাসির উদ্দিন মাস্টার প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, কয়া, নন্দনালপুর, শিলাইদহ, চরসাদিপুর ইউনিয়নসহ আশপাশের প্রায় এক লাখ মানুষ ঘোড়াঘাট দিয়ে পারাপার হয়। পারাপারের ভাড়া ছিল ৬ টাকা। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে ১৪ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এতে সাধারণ জনগণের পারাপারে খরচ বেড়েছে। হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। তাই নতুন ভাড়ার রেট বাতিল করে পূর্বের ৬ টাকা ভাড়া চালু করার দাবি জানান তারা।

আরও পড়ুন: মেট্রোরেলে ভাড়া নির্ধারণ

বক্তারা আরও বলেন, ঘাটে নানা অনিয়ম রয়েছে। পারাপারে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। অতিবিলম্বে ভাড়া পূর্বের ভাড়া বহাল না রাখা হলে আন্দোলন চলমান থাকবে।

জানা গেছে, প্রায় ৫৫ লাখ টাকায় ঘোড়াঘাটের ইজারাদার জেলা আহত মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউল ইসলাম মজনু। ঘাটের নিয়ন্ত্রণ করে জেলা পরিষদ। জেলার এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা প্রকৃত ইজারাদারকে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেনকে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ দেন। চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ঘাট পরিচালনা করেন।

আরও জানা গেছে, ২০১১ সাল থেকে সাধারণ জনগণের পারাপারে ৬ (যাওয়া-আসা) টাকা ভাড়া নেয়া হতো। জেলা পরিষদের মাধ্যমে খুলনা বিভাগীয় এক প্রজ্ঞাপনে ২০১৪ সাল থেকে ভাড়া নেয়া হয় ৮ টাকা। গত ২৯ সেপ্টেম্বর খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ভাড়া বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়। এরপর গত ১৫ অক্টোবর শনিবার বর্ধিত ভাড়ার চিঠি জেলা পরিষদের মাধ্যমে হাতে পান হাট কর্তৃপক্ষ। তারা (হাট কর্তৃপক্ষ) ঘাটের দুই পারে নতুন ভাড়ার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে ভাড়া আদায় শুরু করেন। এতে পারাপারকারীদের সঙ্গে আদায়কারীদের বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ভাড়া কমিয়ে ১৪ টাকা করে দেন। ১৪ টাকার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সকালে এলাকাবাসী ঘাট এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

আরও পড়ুন: এবার লঞ্চের ভাড়া কমলো

এ বিষয়ে ঘাট পরিচালনা কমিটির সদস্য ও আদায়কারী মো. ওলি উল্লাহ বলেন, আগে ঘাট দিয়ে যাওয়া আসায় ভাড়া ছিল ৮ টাকা। হঠাৎ নতুন প্রজ্ঞাপনে সরকার ভাড়া বাড়িয়ে ২০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। আমরা আলী চেয়ারম্যানের নির্দেশে ৬ টাকা কম নিয়ে ১৪ টাকা নিচ্ছি। তবে ঘাট পরিচালনার সঙ্গে চেয়ারম্যানের কোনো সম্পর্ক নেই।

ঘাটের ইজারাদার ও জেলা আহত মুক্তিযোদ্ধা সমবায় সমিতির সভাপতি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউল ইসলাম মজনু বলেন, আমার নামে ঘাট। এ বছর সরকারি খাতে ৫৫ লাখ টাকা দিয়ে ঘাট পেয়েছি। ঘাট আমি চালাই না। এক আওয়ামী লীগ নেতা প্রতি বছর আমাকে টাকা দিয়ে আলী চেয়ারম্যানকে ঘাটের দায়িত্ব দিয়ে দেন। এবারো আমাকে ১৪ লাখ টাকা দিয়ে ঘাট ওই চেয়ারম্যানকে দিয়েছেন। তবে ঘাটের ভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন পেয়েছি।

এ বিষয়ে কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন বলেন, ঘাটের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আমার সমর্থকরা ঘাট চালায়। সরকার ঘাটের ভাড়া বাড়িয়ে ২০ টাকা করেছিল। আমি জনস্বার্থে ঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ১৪ টাকা করেছি। ভাড়া কমিয়ে এখন আমিই বিপাকে আছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মণ্ডল বলেন, ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কেউই পাইনি। বিষয়টি ঘাট কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে জানিয়েছে। কিন্তু তারা কোনো কাগজপত্রাদি আমাকে দেননি। অফিসিয়ালিও কোনো চিঠি পাইনি। তবে ঘাটে কোনো অনিয়ম হলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!