ইউক্রেনে কামিকাজ ড্রোন ব্যবহার করছে রাশিয়া
<![CDATA[
ইউক্রেনের বৈদ্যুতিক অবকাঠামোয় কামিকাজ ড্রোন এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র চালিয়ে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। রুশ বাহিনীর হামলায় গত ১০ দিনে ইউক্রেনের ৩০ থেকে ৪০টি বিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদিকে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালাতে ইরানের ড্রোন ব্যবহার করছে দাবি করে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। খবর রয়টার্সের।
রুশ বাহিনী ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ‘কামিকাজ ড্রোন’ দিয়ে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির চিফ অব স্টাফ অ্যাড্রি ইয়ারমার্ক। সামাজিক মাধ্যমে ইয়ারমার্ক বলেন, রুশরা মনে করেছে, এতে তাদের লাভ হবে। কিন্তু এতে আসলে তাদের হতাশাই প্রকাশ পাচ্ছে।’
ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো রাশিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের অনেক এলাকা। এতে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় ব্ল্যাকআউটের জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি নাগরিকদের ফোন, পাওয়ার ব্যাংক, টর্চ, ব্যাটারি সবকিছু চার্জ দিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু তাই নয় ইউক্রেনে শীত আসতে শুরু করেছে তাই পর্যাপ্ত গরম কাপড় ও কম্বল প্রস্তুত রাখতেও বলা হয়েছে।
রাশিয়া এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদেমির জেলেনস্কি।
আরও পড়ুন: যুদ্ধে আয়োডিন ট্যাবলেটের চাহিদা বেড়েছে
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইচ্ছে করে ইউক্রেনের দক্ষিণে বড় বিপর্যয় ডেকে আনছে। আমাদের কাছে তথ্য আছে রুশ বাহিনী বাধ এবং কাখোভকা হাইড্রোইলেকট্রিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উড়িয়ে দেবে। এটিকে উড়িয়ে দিলে খেরসনসহ অনেক এলাকা পানিতে ভাসবে। জাপোরিঝিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে মস্কো।
একই সঙ্গে রাশিয়াকে ইরান ড্রোন দিয়ে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ করে তেহরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান জেলেনস্কি। ইউরোপীয় কাউন্সিলের অধিবেশনে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে রাশিয়াকে কামিকাজ ড্রোন দেয়ায় ইরানের তিন জেনারেল ও অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যুক্তরাজ্যও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। তবে কোন ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে, তা এখনো জানানো হয়নি।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের অধিকৃত চার অঞ্চলে মার্শাল ল’ জারি
তবে ইরান রাশিয়াকে কোনো ধরনোর ড্রোন দিয়ে সহায়তা করছে না বলে জানিয়েছে মস্কো। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, এসবই যুক্তরাষ্ট্রের চাল, রাশিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের দাবি, ইরানের ড্রোন ব্যবহার করছে রাশিয়া, আর তা করা হচ্ছে সাধারণ ইউক্রেনীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।
এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) ইউক্রেনে যুদ্ধ করতে যাওয়া সেনাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এ সেনারা তার সেনা সমাবেশ ঘোষণা দেয়ার পর সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। স্বল্প প্রশিক্ষণের পর ইউক্রেনে তাদের যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে।
]]>




