বাংলাদেশ

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

<![CDATA[

ব্রিটিশ প্রধামন্ত্রীর পদ থেকে বিদায় নিয়েছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা লিজ ট্রাস। এখন দলটির পরবর্তী নেতা নির্বাচনে শিগগিরই ভোটাভুটির আয়োজন করা হবে। দলে নেতা হওয়ার জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে কয়েকজনের নাম ইতোমধ্যে সামনে এসেছে।

যার মধ্যে রয়েছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক, হাউস অব কমন্সের নেতা পেনি মরডান্ট ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। এ ছাড়া প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্র্যাভারম্যানের নামও শোনা যাচ্ছে।

২০১৯ সালে ভূমিধস জয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হন বরিস জনসন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই গত সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্তির আগে কেউ প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়লে নতুন করে সাধারণ নির্বাচন হয় না। বরং পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের এমপিদের ভোটে পরবর্তী নেতা নির্বাচিত হন।

ফলে রীতিমতো নেতৃত্ব বাছাইয়ের মধ্যদিয়ে বরিস জনসনের স্থলাভিষিক্ত হন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস। কিন্তু সরকার চালাতে অক্ষমতার কথা জানিয়ে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) পদত্যাগ করেন তিনি। পদত্যাগের ঘোষণার সময় ট্রাস জানান, উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হতে পারে।

এরপর পার্লামেন্টের প্রভাবশালী ‘১৯২২ ব্যাকবেঞ্চ কমিটি’র চেয়ারম্যান স্যার গ্রাহাম ব্রাডি জানান, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নেতৃত্ব বাছাই শেষ হবে। সেই লক্ষ্যে আগামী সোমবারের (২৪ অক্টোবর) মধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে লাগামহীন বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবারের ডেডলাইন সামনে রেখে প্রার্থী হওয়ার জন্য ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন কনজারভেটিভ এমপিরা। তবে প্রার্থী হতে হলে কমপক্ষে ১০০ জন এমপির সমর্থন থাকতে হবে। পার্লামেন্টে বর্তমানে কনজারভেটিভ এমপির সংখ্যা ৩৫৭। সে হিসাবে তিনজনের বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাবেন না।

এখন পর্যন্ত প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি কেউ নিশ্চিত করেননি। তবে পরবর্তী নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীর নাম সামনে আসছে। সহকর্মীদের বিদ্রোহের মুখে মাত্র দেড় মাস আগেই বিদায় নিতে হয়েছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। তবে নেতৃত্ব বাছাইয়ে আবারও নাটকীয়ভাবে ফিরে আসতে পারেন তিনি।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এমপি ঋষি সুনাক ও সাবেক মন্ত্রী পেনি মরডান্টকেও সম্ভাব্য প্রার্থী মনে করা হচ্ছে। বরিস জনসনের উত্তরসূরি হওয়ার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত লিজ ট্রাসের কাছে পরাজয় শিকার করেছিলেন তারা। 

বিবিসির প্রতিবেদন মতে, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি এমপির সমর্থন পেয়েছেন ঋষি সুনাক। কমপক্ষে ৪৪ এমপি তাকে সমর্থন ঘোষণা করেছেন। এরপরই রয়েছেন বরিস জনসন। তাকে সমর্থন দিয়েছে ২৩ এমপি। আর পেনি মরডান্ত সমর্থন পেয়েছেন ১৬ এমপির।

গত কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত। মূলত ২০১৬ সালের ২৩ জুন ব্রিটেনে অনুষ্ঠিত ব্রেক্সিট গণভোটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া) পর থেকেই এ অস্থিরতার শুরু। এরপর করোনা মহামারি ও হালে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি শুরু হয় অর্থনৈতিক অস্থিরতাও।

আরও পড়ুন: হ্যারি-মেগানের বিয়ের পর ভেঙে পড়েছিলেন চার্লস

তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সেই সময় অভিবাসী ঠেকাতে এই উদ্যোগ নিলেও পরবর্তী সময়ে যত সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, তাদের স্থায়িত্ব ছিল ভঙ্গুর। অল্প সময়ের ব্যবধানেই তাদের পদ ছাড়তে হয়েছে রাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থায়। এমনকি ক্যামেরনকেও পদত্যাগ করতে হয়েছিল। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মাত্র দেড় মাসের মাথায় ক্ষমতা ছাড়তে হয় লিজ ট্রাসকে। অবশ্য শুরু থেকেই ব্রেক্সিটের কারণে দেশটিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা করেছিলেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাজ্যে গত ৬ বছরে চার চারজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন এবং তাদের বিদায় নিতে হয়েছে স্বল্প সময়ের মধ্যে। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ডেভিড ক্যামেরন ২০১০ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তার পদত্যাগের পর ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন দলের নেতা তেরেসা মে।

তেরেসার বিদায়ের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আসেন বরিস জনসন। তিন বছরের মাথায় দলীয় বিদ্রোহের মুখে সরে দাঁড়ান এই নেতা। এরপর গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন লিজ ট্রাস। কিন্তু দেড় মাসের মাথায় তাকেও বিদায় নিতে হলো অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতায়।

আরও পড়ুন: সাবেক ব্রিটিশ পাইলটদের নিয়োগ দিচ্ছে চীন, সতর্ক যুক্তরাজ্য

ব্রিটেনের এ অস্থিতিশীলতা নিয়ে অনেকে বিদ্রুপ করছেন। যুক্তরাজ্যে যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক টালমাটাল অবস্থা তখন ব্রেক্সিট নিয়ে খোঁচা দিয়েছেন বেলজিয়ামের প্রবীণ রাজনীতিক ইউরোপপন্থি গাই ভারহফস্ট্যাড। গত শনিবার (৮ অক্টোবর) এক টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, এ বিশৃঙ্খলা ২০২২ সালে শুরু হয়নি, হয়েছে ২০১৬ সালে। এর মাধ্যমে ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য ব্রিটেনের গণভোটের প্রসঙ্গও টানেন তিনি।

এদিকে অপর ইউরোপীয় দেশ স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের মন্তব্যেও একই ইঙ্গিত ছিল। তিনি গত সপ্তাহে ব্রিটেনের সংকট উন্মোচিত হওয়ার পর ট্রাসের কর প্রস্তাবের নিন্দা করেছিলেন। স্পেনের পার্লামেন্টে তিনি বলেন, আমরা যুক্তরাজ্যে চরম অস্থিরতা দেখছি। কেউ কেউ যুক্তরাজ্যের এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে বিশৃঙ্খল ইতালির মতোই মনে করছেন।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
error: Content is protected !!