সাঁতার না জানায় বেঁচে গেলেন তিনি!
<![CDATA[
সাথে ছিল ৯ জন শ্রমিক। মারা গেছেন ৮ জন। কিন্তু ভাগ্য ক্রমে বেঁচে গেলেন একজন। আর সাঁতার না জানায় বেঁচে গেলেন তিনি। বলছি বাবুর্চি আবদুস সালামের এর কথা। চট্টগ্রামের মীরসরাই উপকূলে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে বালু তোলার ড্রেজার ডুবিতে ৮ জন শ্রমিকের মৃত্যু হলেও বেঁচে ফিরেছেন আবদুস সালাম।
তিনি সাঁতার না জানায় ঘূর্ণিঝড়ের আগে ড্রেজার ছেড়ে চলে আসেন কূলে। ওই ড্রেজারে রান্না করতেন সালাম। বেঁচে ফেরার পর তিনি শুনিয়েছে মৃত্যু দোয়ার থেকে বেঁচে ফেরার গল্প।
আবদুস সালাম জানা , সৈকত-২ এন্টারপ্রাইজ নামে ড্রেজারে তিনি রান্নার কাজ করতেন। তারা মিরসরাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরে বেপজার এক ঠিকাদারের বালু তোলার কাজ করছিলেন। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের কারণে সোমবার (২৪) রাত আটটার পর থেকে সমুদ্রে বাতাসের সাথে বড় বড় ঢেউ বাড়ছিল। ড্রেজার নতুন ও শক্তপোক্ত হওয়ায় মিস্ত্রিসহ সবাই ড্রেজার ছেড়ে যাচ্ছিল না। তীব্র বাতাসের সঙ্গে সমুদ্রে বড় বড় ঢেউ শুরু হলে পাশের অন্য ড্রেজারের লোকজন নৌকা নিয়ে এসে তাদের কিনারে যেতে অনুরোধ করেন।
আবদুস সালাম সাঁতার না জানায় ড্রেজারের মিস্ত্রি শাহীন মোল্লা তাকে নৌকায় তুলে দিয়ে বাকি আটজন ড্রেজারে থেকে যান। কূলে ফেরার কিছু সময় পর আবদুস সালাম জানতে পারেন, তাদের ড্রেজার উল্টে ডুবে গেছে। তখন তার বুক কেপে উঠে। ডুবে যাওয়া ড্রেজারে আটকা পড়ে সবাই মারা গেছেন। কথাগুলো যখন রাতে বঙ্গোপসাগরের কূলে বসে বলছিলেন তখন সে একটু একটু কাঁপছিল। গায়ে লাল জেকেট। বলার সময় চোখেমুখে ভয়, আতঙ্ক আর অস্থিরতা আঁচ করা যাচ্ছিল।
আরও পড়ুন: সিত্রাংয়ের আঘাতে ড্রেজারডুবি, ৮ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার
আবদুস সালাম জানান, তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের নলছিটি উপজেলায়। তিনি নোয়াখালী জেলার মজুচৌধুরী ঘাট এলাকায় কাজ করতেন। পরে এক ছেলে আর স্ত্রীকে নিয়ে এখানেই স্থায়ী হন। দুই যুগ ধরে বালু তোলার ড্রেজারে রান্নার কাজ করেন সালাম। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের রাতে ড্রেজার ডুবে না–ফেরার দেশে চলে যান তাঁর আট সহকর্মী।
চোখের কোণে জল নিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘দীর্ঘ সময় যাদের রান্না করে খাইয়েছি, তারা কেউ আর বেঁচে নেই। আর কখনো তাদের রান্না করে খাওয়াতে পারব না, এটি ভাবলে বুকটা হু হু করে ওঠে। তাদের পরিবারের কি হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেন তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয়। সরকারের কাছেও সহায়তার আবেদন করছি তাদের পরিবারের জন্য।
]]>




