ঢালিউডে আগামীর সুপারস্টার কে?
<![CDATA[
সুপারস্টার বা মহাতারকা। বাংলা সিনেমায় সময়ের পালাক্রমে এসেছে একের পর এক তারকা। তাদের মধ্যে কেউ পেয়েছেন অভিনয়শিল্পীর তকমা আবার কেউ হয়ে উঠেছিলেন সুপারস্টার। অনেক তারকার সিনেমা দেখার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় থাকত দর্শক। প্রেক্ষাগৃহে তাদের সিনেমা মানেই সুপারহিট।
ঢালিউড সিনেমায় রাজ্জাক, জসিম, আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চনের পর মান্না, সালমান শাহ, রিয়াজ দীর্ঘদিন রাজত্ব করেছেন। তাদের অভিনয়ের পাশাপাশি দর্শকপ্রিয়তা এখনো আকাশছোঁয়া। তাদের পরবর্তী সময়ে এসে ঢালিউডের হাল ধরেছিলেন শাকিব খান। এরপর দীর্ঘসময় ধরে একাই রাজত্ব চালিয়েছেন। ভক্তরা ভালোবেসে ঢালিউড কিং খান নামেও ডাকেন তাকে। শাকিব খানের পর ঢালিউডে বেশ কিছু নতুন মুখের অবির্ভাব হলেও তাদের প্রদীপ যেন মাঝপথেই নিভে গেছে। কেউ দু-একটা সিনেমায় সফল হয়েছেন আবার কারো কাছে চির-অধরা হয়েই আছে হিট তকমা।
বর্তমান সময়ে বেশ কিছু নতুন মুখ ইন্ডাস্ট্রিতে দাপিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যারা দেখেছেন সফলতা, পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা। এসব নতুন মুখের মাধ্যমেই আবার হলে ফিরছে মধ্যবিত্ত দর্শক। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রজন্মের তারকারা ফিরিয়ে আনতে পারেন অতীতের গৌরবোজ্জ্বল দিন।
আরও পড়ুন: শেষ হচ্ছে শাকিব-বুবলী অধ্যায়!
সিয়াম আহমেদ
মডেল, টিভিতে অভিনয়ের পর সিয়াম আহমেদ পদার্পণ করেন ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে। ‘পোড়ামন-২’ দিয়ে ক্যারিয়ারের যাত্রা শুরু করেন এই তরুণ অভিনেতা। সিয়ামের সব সিনেমাই যে দর্শককে হলে টানতে পেরেছে এমন নয়। ২০১৮-২২ স্বল্পদিনের ক্যারিয়ারে সাফল্য যেমন ধরা দিয়েছে, ঠিক তেমনি তার ক্যারিয়ারে রয়েছে ফ্লপের গল্পও। সেই সঙ্গে আছে অভিনয় নিয়েও সমালোচনা। তবে সবকিছু ছাপিয়ে দর্শকের পছন্দের তালিকায় আছেন সিয়াম আহমেদ। শুধু দর্শক নয়, নির্মাতারাও মুখিয়ে থাকেন তার সঙ্গে কাজ করার জন্য। মুক্তির অপেক্ষায় আছে তার ‘দামাল’ সিনেমা।
শরিফুল রাজ
২০২২। না শাকিব খান, না আরিফিন শুভ। তাদের ছাপিয়ে আলোচনায় ছিলেন শরিফুল রাজ। ‘পরাণ’ সিনেমায় তার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শক বেশ পছন্দ করেছেন। পরাণের রেশ না কাটতেই আসে ‘হাওয়া’ সিনেমা। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ‘দামাল’। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, ইন্ডাস্ট্রিতে রাজ করতেই এসেছেন শরিফুল রাজ। স্বল্পদিনের ক্যারিয়ারে পেয়েছেন সফলতা, সেই সঙ্গে দর্শকপ্রিয়তা। শুধু নায়ক হিসেবে নয়, নিজেকে মেলে ধরেছেন একজন ভালো অভিনেতা হিসেবেও। আগামীর চলচ্চিত্রের সম্ভাবনাময় তারকা হিসেবে জ্বলে উঠেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: যে কারণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চান মাহি
জিয়াউল রোশান
ভারী কণ্ঠ ও নায়োকোচিত চেহারার তারকা রোশান। ২০১৬ সালে ‘রক্ত’ সিনেমার মধ্য দিয়েই যাত্রা শুরু তার। গত ছয় বছরে ‘বেপরোয়া’, ‘ককপিট’, ‘মেকাপ’ সিনেমাগুলো তাকে আলোচনায় আনে। ধীরে ধীরে রোশান হয়ে ওঠেন আরও পরিণত। নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেও তার বেশ কিছু সিনেমা মুখ থুবড়ে পড়েছে হলগুলোতে। তারপরও ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনাময় তারকাদের মধ্যে তার নাম ওপরের সারিতেই। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ও দর্শকের মতে, স্ক্রিপ্ট চয়েসে একটু সচেতন হলে সামনের দিনগুলোতে সে তার কাঙ্ক্ষিত সফলতা পেয়ে যাবে, তার মধ্যে সেই ট্যালেন্ট আছে। ট্যালেন্ট শুধু সঠিক জায়গায় দেখাতে হবে।
এবি এম সুমন
বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে যে কয়েকজনের মধ্যে আগামীর সুপারস্টার হওয়ার মতো প্রতিভা ও সম্ভাবনা দেখতে পাওয়া যায়, তার মধ্যে এবিএম সুমন একজন। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ দিয়ে আলোচনায় চলে আসেন এই অভিনেতা। যদিও সম্প্রতি তার সিনেমা দর্শককে হলে টানতে পারেনি। তবে এই নায়কের পাইপলাইনে আছে বেশ কিছু সিনেমা। অভিনেতা হিসেবে তার ডেডিকেশন, চেষ্টা ও পরিশ্রম তাকে নিয়ে যাবে সফলতার শিখরে–এমনটাই আশা করছেন তার ভক্তরা।
আরও পড়ুন: যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন না পূজা চেরি
বলা যায় সুপারস্টার শাকিব খানের পর আরিফিন শুভ ইন্ডাস্ট্রিতে একটা পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছেন। দর্শকপ্রিয় কিছু সিনেমা উপহার দিয়ে ক্যারিয়ারে যোগ করেছেন সুপারস্টারের তকমা। এই দুই তারকার পর ভবিষ্যতে কে বা কারা হাল ধরবেন বাংলা চলচ্চিত্রের, কেই-বা পাবেন সুপারস্টারের তকমা? আলোচিত হিরোরা নাকি নতুন কোনো মুখ–সেটা জানা এখন সময়ের ব্যাপার।
]]>




