বিনোদন

প্রাথমিক শিক্ষকদের অনলাইন বদলিতেও অনিয়মের অভিযোগ

<![CDATA[

নীতিমালায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সিনিয়রদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা থাকলেও তথ্য যাচাই বাছাইয়ের সময় শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মের কারণে যোগ্য অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। এমন অভিযোগ বগুড়ায় কর্মরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের।

সফটওয়ারের সীমাবদ্ধতার অজুহাত উপজেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাদের। তবে অজ্ঞাত কারণে ক্যামেরার সামনে এ নিয়ে মুখ খুলতেই নারাজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চৌধুরী।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ২০২২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো অনলাইনে বদলি প্রক্রিয়া শুরু করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদফতর। দুর্নীতিমুক্ত স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বগুড়ায়।

সমন্বিত অনলাইন বদলি নির্দেশিকা ২০২২ এর সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, শূন্য পদে একাধিক প্রার্থী থাকলে প্রতিবন্ধকতা ও কর্মরত বিদ্যালয়ে কর্মকালসহ জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে তা মানা হয়নি বলছেন আবেদনকারীরা।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হওয়া স্বত্বেও বদলি হতে পারেননি স্বামীর স্থায়ী ঠিকানা থেকে ২২ কিলোমিটার দুরে কর্মরত সহকারী শিক্ষিকা কানিজ ফাতেমা কান্তা। তিনি বলেন, আমার প্রতিবন্ধকতা আছে। স্বামীর ঠিকানার চেয়ে দূরত্ব ২০ কিলোমিটারেরও বেশি। আমি মনে করি বদলি পাওয়ার যোগ্য ছিলাম। তবে কেন হলো না জানি না। আমি খুবই হতাশ।

আরও পড়ুন: প্রাথমিকের শিক্ষকদের বদলির আবেদনের সময় বাড়ল

১৯৮৭ সালে নিয়োগ পাওয়া ফরিদা ইয়াসমিনও আবেদন করেছিলেন সদরের চকসূত্রাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলির জন্য। চাকরি জীবনের আর মাত্র ২ বছর বাকি। শেষ সময়টায় বাড়ির পাশের স্কুলে বদলির আবেদন করেছিলেন তিনি। অথচ এই পদে এসেছেন ২০১৬ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষিকা।  সদরের ২৫টি শূন্য পদে আবেদন করা আরও অনেকেই যোগ্য হয়েও বদলির আদেশ পাননি।

বিষয়টি নিয়ে আবেদনকারীদের মতো হতাশ শিক্ষক নেতারাও। বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক কল্যাণ সমাজ বগুড়া সদর উপজেলার সভাপতি মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, অনিয়ম কমাতে সরকার অনলাইনে বদলি আবেদনের উদ্যোগ নিয়েছে। এটা সাধু উদ্যোগ। তবে এই বদলি নীতিমালা অনুযায়ী হয়েছে বলে মনে হয় না। এ কারণে শিক্ষকদের মাঝে হতাশা কাজ করছে।

অনিয়মের অভিযোগ পৌঁছেছে উপজেলা শিক্ষা কমিটিতে থাকা জনপ্রতিনিধির কাছেও। এই কমিটির সভাপতি সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান শফিক জানান, একাধিক সহকারী শিক্ষক তার কাছে অভিযোগ করেছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

শিক্ষকদের অভিযোগ, আবেদন যাচাই বাছাইয়ের সময় অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী শিহাবুল।

আরও পড়ুন: মাধ্যমিকের শিক্ষকদের অনলাইন প্রশিক্ষণের সময় বেড়েছে

তবে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জোবায়দা রওশন জাহান বলছেন, অনিয়ম নয় বরং সফটওয়্যারে সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। তিনি বলেন, আমার অফিস থেকে শতভাগ নিয়ম মেনে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হয়েছে। এখান থেকে ডিপিও (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার) স্যারের অফিসে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা) অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। তবে সফটওয়্যার ডেভেলপন্টে কাজ চলমান। ভবিষ্যতে আরও সুন্দরভাবে বদলি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে নিয়ম মাফিক জেলা অফিসে আবেদন প্রেরণের কথা বলা হলেও তা সরাসরি অস্বীকার করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান চৌধুরী। তিনি জানান, উপজেলা থেকে সরাসরি অধিদফতরে পাঠানো হয় আবেদন। সেখান থেকে বদলির জন্য চূড়ান্ত তালিকা আসে তার কাছে। তিনি জানতেও পারেন না কাদের বদলি হয়েছে।

১৯৭২ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো সম্পন্ন হয়েছে অনলাইন বদলি কার্যক্রম।

]]>

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button
error: Content is protected !!